রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের একাংশের করা বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনা প্রদান করে। অভিযোগের বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রিহ্যাব সভাপতিকে সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার ফলে রিহ্যাবের আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও গ্রীষ্মকালীন আবাসন মেলার আয়োজন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আগামী শনিবার ঢাকার হোটেল রেডিসন ব্লুতে বার্ষিক সাধারণ সভা এবং ১২ আগস্ট রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চার দিনব্যাপী আবাসন মেলা হওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি কর্মচারী নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতির মতো প্রশাসনিক কার্যক্রমও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে।
রিহ্যাবের সহসভাপতি মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাসসহ পরিচালনা পর্ষদের ১০ জন সদস্য গত ২৬ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগে আর্থিক অনিয়মসহ মোট ১২টি বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গত ২২ জুলাই পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই সভাপতি আলী আফজাল ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক সংগঠনের তহবিল থেকে যৌথ স্বাক্ষরে দুই কোটি টাকা তুলেছেন। এছাড়া গত তিন মাসে পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই আরও ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংগঠনের গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠনে অনিয়ম করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পর্ষদের সদস্যদের বাদ দিয়ে সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তাঁদের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন কমিটিতে নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া রিহ্যাব কার্যালয়ের গোপন তথ্য ফাঁস এবং ক্রয়সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি বাতিলের মতো বিষয়গুলোও অভিযোগে উঠে এসেছে।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে রিহ্যাব সভাপতি মো. আলী আফজাল জানান, এগুলি ভিত্তিহীন। তাঁর ভাষ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ২ কোটি টাকা অনুদান ও স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের যথাযথ অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে এসবের স্বপক্ষে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।






























