রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি ও জাপানে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার ফলে এই মেয়াদ শেষেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আর নির্বাচন করবেন না তিনি
আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতা ফুমিও কিশিদা। সেই সাথে তিনি আর নির্বাচন করবেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।
৬৭ বছর বয়সী ফুমিও কিশিদা পরবর্তী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করারও ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে এলডিপির প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হবে। এরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
একটি টেলিভিশন সংবাদ সম্মেলনে কিশিদা বলেন, সেপ্টেম্বরে আমার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সব দায়িত্ব পালন করে যাব।
তিনি জানান, রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি ও জাপানে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার ফলে এই মেয়াদ শেষেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আর নির্বাচন করবেন না তিনি। দলের নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন তিনি।
তিনি বলেন, একটি স্বচ্ছ ও মুক্ত নির্বাচন এবং অবাধ ও মুক্ত বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রথম পদক্ষেপ হবে এলডিপি থেকে আমার সরে আসা। কিশিদার এই ঘোষণার পর দলের অনেকেই হতাশ হয়েছেন। দলটির একজন নেতা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত খুবই দুঃখজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক।
২০২১ সালের অক্টোবরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন ফুমিও কিশিদা। তিন বছরের শাসনকালে তিনি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধিসহ নিরাপত্তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায়, সাউথ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত এবং করোনা মহামারি সামাল দিয়েছেন। তবে মূল্যবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির কারণে সমালোচিত হতে হয়েছে তাকে।
তার শাসনামলে জাপানে জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। গত মাসে জাপানি সংবাদমাধ্যম জিজি প্রেসের এক জনমত জরিপে দেখা যায়, কিশিদার জনসমর্থন এখন ১৫ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে গেছে। স্থানীয় কিছু গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ব্যাপকভাবে জনসমর্থন হারানোর কারণেই মূলত আর নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিশিদা।
































