বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের সন্নিকটে অবস্থিত রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে আর্থিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক বার্কলেসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ ও বন্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদানের আগে ব্যাংকটি পরিবেশগত ও মানবাধিকারের ঝুঁকি যথাযথভাবে যাচাই করেনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবন অঞ্চলের তিন ব্যক্তি ও সংগঠন যুক্তরাজ্য সরকারের 'অফিস ফর রেস্পন্সিবল বিজনেস কন্ডাক্ট'-এ এই মামলা করেছেন। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এই দপ্তর এখন অভিযোগটি তদন্তের জন্য গ্রহণ করা হবে কি না, তা পর্যালোচনা করবে। অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্ডাররাইটিং সেবা দেওয়ার মাধ্যমে বার্কলেস ব্যাংক আন্তর্জাতিক দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে।
ঢাকাভিত্তিক পরিবেশকর্মী শরীফ জামিল অভিযোগকারীদের অন্যতম। তিনি জানান, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এর পার্শ্ববর্তী শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ভারী ধাতু পশুর নদীর মাধ্যমে সুন্দরবনের নদী ও খালগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে, যা বনের সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের প্রাণরেখা পশুর নদীর তীরে অবস্থিত।
গত নভেম্বরে প্রকাশিত একটি গবেষণায় সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানের পানিতে পারদ ও আর্সেনিকের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। সবচেয়ে বেশি ঘনত্ব পাওয়া যায় পশুর নদীতে। গবেষকেরা শিল্পবর্জ্য ও বন্দরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডকে ভারী ধাতু দূষণের অন্যতম উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেন। কয়লা পোড়ানোর ফলে নির্গমন এবং নৌযান চলাচল বৃদ্ধির কারণে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সুন্দরবনের জন্য ‘উল্লেখযোগ্য পরিবেশগত হুমকি’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
সুন্দরবন বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নদী ও বন থেকে খাদ্যসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল এসব মানুষের পাশাপাশি সুন্দরবন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত এই বনভূমিতে রয়েছে শতাধিক দ্বীপ এবং বেঙ্গল টাইগারসহ অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী।
অভিযোগকারীদের আরো দাবি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গমন বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ এই অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বন ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে।
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০: ১৩আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০: ১৫






























