শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সিলেটের কানাইঘাট দনা সীমান্ত থেকে রাত ১১টা ২০ মিনিটে আটক করা হয় সাবেক এ বিচারপতিকে। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক আটক হয়েছে। ভারতে যাওয়ার প্রাক্কালে সীমান্তে বিজিবির হাতে আটক হন তিনি।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সিলেটের কানাইঘাট দনা সীমান্ত থেকে রাত ১১টা ২০ মিনিটে আটক করা হয় সাবেক এ বিচারপতিকে। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, কেউ একজন সাবেক বিচারপতি মানিকের গলায় গামছা পেঁচিয়ে হাত দিয়ে ধরে রেখেছেন। আরেকজন তার নাম জিজ্ঞেস করছেন। এ সময় বিচারপতি মানিক তার পুরো নাম বলেন এবং তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জ বলে জানান।
তিনি বলেন, আমি ১৫ হাজার টাকায় চুক্তি করে সীমান্ত পার হতে চাচ্ছিলাম। পরে আমাকে দুই ছেলে ভারত সীমান্তে নিয়ে গিয়ে আমার সঙ্গে থাকা ৬০-৭০ লাখ টাকা এবং মোবাইল নিয়ে যায়।
আটকের পর কয়েকজন মানিককে তার পালানোর কারণ জিজ্ঞাসা করেন। তখন বিচারপতি মানিক বলেন, ‘প্রশাসনের ভয়ে পালিয়ে যেতে চাচ্ছিলাম। তখন অপর পাশ থেকে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি তো অনেক জুলুম করেছেন। তখন মানিক উত্তর দেন, আমি কোনো জুলুম করিনি।’
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এর পর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের হয়।
বিচারপতি মানিকের বিরুদ্ধে গত ১৯ আগস্ট শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতে মামলা হয়। মামলার বাদী অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ। তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।
এদিকে গত ২২ আগস্ট বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে আরেকটি মামলা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে আইনজীবী মো. জিয়াউল হক বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর চ্যানেল আই’র টকশো ‘মেট্রোসেম টু দ্য পয়েন্টে’ জিয়াউর রহমানকে রাজাকার এবং যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিহিত করেন। গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি এক সেমিনারে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি ছিলের মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী।
২০১৩ সালের ১৯ জুলাই ভিন্ন আরেক অনুষ্ঠানে হাসানুল হক ইনু এবং রাশেদ খান মেননও জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। এছাড়া আসামিরা বিভিন্ন সময় জিয়া পরিবার নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।





























