তুরস্কে পাঁচ দিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সরকারি সফর সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শনিবার তিনি ঢাকায় পৌঁছান বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গত ১৯ জুলাই তুরস্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন তিনি।
সফরকালে সেনাপ্রধান তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকগুলোতে তিনি তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের, তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওলু, স্থলবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল মেতিন তোকেল এবং ইস্তাম্বুল নৌ জাহাজ নির্মাণশালার পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল রেজেপ এরদিনচ ইয়েতকিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া তুরস্কের ডিফেন্স行业 এজেন্সির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও একটি বিশেষ বৈঠক করেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
তুর্কি স্থলবাহিনীর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এর আগে তিনি তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। এ সময় দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ জোরদারকরণ, আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও শিল্পে যৌথ অংশীদারিত্ব, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে পেশাগত সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও সম্প্রসারিত করতে উভয় পক্ষই গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও ঘুরে দেখেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর অত্যাধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি), আধুনিক প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। আইএসপিআর আশা প্রকাশ করেছে যে, সেনাপ্রধানের এই সফর দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প, সামরিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


























