বন্যার সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা যাতে সংকটে না পড়ে সেজন্য এরই মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ ও গবেষণাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্তাব্যক্তিদের নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বৈঠক করেছেন।
অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় দেশের ১১টি জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ধুঁকছে অর্ধ কোটিরও বেশি মানুষ। জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে বন্যা উপদ্রুত জনপদে বিপর্যস্ত কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাও। বন্যায় দূর্গতদের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে ফসলের বড় রকমের এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তৎপর কৃষি বিভাগ।
বন্যার সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা যাতে সংকটে না পড়ে সেজন্য এরই মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ ও গবেষণাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্তাব্যক্তিদের নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বৈঠক করেছেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্যায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গুচ্ছ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সমন্বিত গৃহীত পদক্ষেপের কথা জানিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষায়িত সংস্থা কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক ড. সুরজিত সাহা রায় বলেন, ‘গত শনিবার মাননীয় কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বন্যায় কৃষিতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে পানি নেমে যাওয়ার উপর। বন্যার পানি যদি ৭ সেপ্টেম্বরের (২০২৪) মধ্যে নেমে যায় তাহলে কিছু ধান নতুন করে লাগানো যাবে। সর্বোচ্চ ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাগানো যাবে, তারপরও অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।’
ড. রায় বলেন, ‘প্রধান খাদ্য শস্য ধানের উৎপাদনের কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা চেষ্টা চালাব। শাকসবজি হয়ত হবে। কৃষি উপদেষ্টা মহোদয় এ নিয়েই কথা বলেছেন আমাদের সঙ্গে। তিনি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন-যেসব উঁচু জায়গা আছে; বিশেষ করে কৃষি প্রশিক্ষণণ ইনস্টিটিউট (এটিআই), কৃষির গবেষণা ইনস্টিটিউটসমূহ, অন্যান্য পতিত সরকারি জমি, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান নাবী জাতের রোপা আমন ধানের বীজতলার জন্য ২/৩ একর করে জায়গা দিচ্ছে। ফেনী, কুমিল্লা ও আশেপাশেও কিছু জায়গা পাওয়া গেছে।’
‘‘যেহেতু এখন কৃষকদের বীজ দিয়ে লাভ নেই, তাই চারা উৎপাদন করে বিনামূল্যে পৌছে দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। আমরা কিছু প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও কৃষকদের দিচ্ছি যা লিফলেট আকারে বিতরণ করা হবে। সম্প্রচার মাধ্যমগুলোতেও প্রচার করা হবে। প্রচার করা হবে বেতার ও কমিউনিটি রেডিওতেও’’-যোগ করেন এই জ্যেষ্ঠ কৃষি কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে বন্যা পরবর্তী সময়ে কৃষকরা কী ধরণের ফসল করতে পারে তাও পরামর্শ দেওয়া হবে। পানি সরতে যদি সেপ্টেম্বর মাস চলে যায় তাহলে তো ধানের কথা আর চিন্তা করা যাবে না। তখন শীতকালীন শাক-সবজি করতে হবে। উচু বেডে চারা করে আগাম সবজি কিভাবে করা যায় সে চেষ্টা করতে হবে। চেষ্টা করতে হবে ভুট্টা-সরিষার মতো ফসল আবাদ করে যাতে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। সরকার চেষ্টা করছে কৃষকদের সার-বীজ প্রণোদনা দেওয়ার ।
সাম্প্রতিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে কৃষি সচিব ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান এর সভাপতিত্বে কৃষি মন্ত্রণালয় গৃহীত ১২টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়-জানান ড. সুরজিত সাহা রায়।
প্রণোদনাবৃদ্ধি ও পুনর্বাসন কর্মসূচিতে জোর দেওয়া সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে-
১.অতিরিক্ত পরিচালক, উপপরিচালক, উপজেলা কৃষি অফিসার এবং কৃষি সম্প্রসারণ অফিসারগণের সমন্বয়ে টিম গঠন করে দুর্যোগ মোকাবেলায় সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে;
২. চলমান কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি জোরদার করতে হবে।
৩. বন্যায় ক্ষতি মোকাবেলার জন্য উপযুক্ত জাতের আমন ধানের বীজের পর্যাপ্ত সংস্থান ও সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় আপদকালীন বীজতলা তৈরীর কাজ শুরু করতে হবে।
৫. নাবী জাতের রোপা আমন ধান চাষে কৃষকদের পরামর্শ দিতে হবে।
৬. নাবী জাতের ধানের বীজ দেশের বন্যামুক্ত এলাকা হতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
৭. বন্যা কবলিত ঝুঁকিপূর্ণ গুদামে রক্ষিত সার নিরাপদ জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে।
৮. আগাম জাতের শীতকালীন সবজি উৎপাদনের বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
৯. বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার লক্ষ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণপূর্বক মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করতে হবে।
১০. বন্যা দুর্গত এলাকার কৃষি অফিসসমূহে সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়।
১১. বন্যা দূর্গত এলাকার সার্বক্ষণিক তথ্য সরবরাহের লক্ষ্যে উপজেলা, জেলা, অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপনপূর্বক হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ করতে হবে।
১২. বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি অফিসসমূহের মালামাল নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করতে হবে।





























