পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে শুক্রবার ভোরে পুনরায় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে আদালতের নির্দেশে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে রাজধানী ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তার আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং একজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ড ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। চিকিৎসকরা তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করার পর তাকে আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। পরীক্ষার সময় ইমরান খানের বোন ও চিকিৎসক উজমা খান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতাল এলাকা ঘিরে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল এবং ক্লিনিকের দিকে যাওয়ার রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ৭৩ বছর বয়সী এই নেতার সমর্থকরা হাসপাতালের বাইরে ভিড় করেছিলেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে ইমরান খান চোখের চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তখন তার পরিবার ও আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।
ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি গত বছরের শেষ দিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইমরান খানকে সামরিক বাহিনীর সাথে উত্তেজনার জেরে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ বেশ কিছু মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ২০২৩ সালের মে মাসে তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল, যা পরবর্তীতে সহিংসতায় রূপ নেয় এবং শত শত মানুষ গ্রেপ্তার হয়। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর তার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।
সূত্র: গালফ টুডে






























