রাজধানীর খিলগাঁও থানার চারটি ও পল্টন মডেল থানার একটি মামলায় তাকে জামিন দিয়েছেন আদালত; মামলা পাঁচটির তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টা
মকবুল নামের এক বিএনপিকর্মী নিহতের মামলায় সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হক এই রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরির্দশ (এসআই) নাজমুল হাচান এই রিমান্ড আবেদন করে আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এর আগে গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির একদফা দাবি আন্দোলন কর্মসূচি ঘিরে সারাদেশের নেতাকর্মীরা যখন জড়ো হতে থাকেন তখন আসামিরা বিএনপির সমাবেশ বানচালের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৬০০ জন আসামি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। আসামিরা বিএনপি অফিসে প্রবেশ করে ভাঙচুর করেন।
রাজধানীর খিলগাঁও থানার চারটি ও পল্টন মডেল থানার একটি মামলায় তাকে জামিন দিয়েছেন আদালত; মামলা পাঁচটির তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টার। আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন।
জানা গেছে, সাবের হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আর মামলা না থাকায় রাতেই তিনি ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে মুক্ত পেতে পারেন।
আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন সংবাদমাধ্যমকে জানান, উল্লেখিত পাঁচ মামলসহ মোট ছয় মামলায় জামিন আদেশের ফলে কারাগার থেকে মুক্তি পেতে সাবের হোসেন চৌধুরীর এখন কোনো আইনি বাধা থাকল না।
এর আগে গতকাল সোমবার সাবেক এই মন্ত্রীকে আদালতে হাজির করে পল্টন থানার একটি হত্যা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ ছাড়া জামিন হওয়া চার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পাঁচ দিন রিমান্ডে এক দিন শেষ হওয়ার আগেই আজ মঙ্গলবার তাকে অসুস্থতাজনিত কারণে আদালতে হাজির করা হয়।
গতকাল রিমান্ডের আদেশ হওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাবের হোসেন চৌধুরীর সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় সিএমএম আদালতের গেটে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের ওপর পঁচা ডিম নিক্ষেপ করেন।
এ সময় আদালতের বারান্দা থেকেও ডিম নিক্ষেপ করা হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে কয়েকজন বিক্ষোভকারী সাবের হোসেনের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। পেছন থেকে একজনকে সাবের হোসেনকে চড় মারতেও দেখা যায়। এ সময় পুলিশসহ আসামিরা দৌড়ে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় প্রবেশ করেন। ডিম এসে পড়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের ওপরও।































