চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন আকাশসীমা অতিক্রমকারী চীনা গুপ্তচর বেলুনটি মার্কিন সামরিক সাইটগুলোর ছবি তুলতে এবং কিছু সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স বা সংকেত সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, বেলুনটি সংগৃহীত তথ্য রিয়েল-টাইমে সরাসরি বেইজিংয়ে পাঠাতে সক্ষম ছিল।
মার্কিন সরকার এখনো নিশ্চিত নয় যে, তথ্য পাঠানোর সময় চীনা সরকার বেলুনটির ডেটা মুছে ফেলার সক্ষমতা রাখত কি না। এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে যে, বেলুনটি এমন কোনো তথ্য সংগ্রহ করেছে কি না যা সম্পর্কে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখনো অবগত নয়। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায় বেলুনটির সংগৃহীত তথ্য নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নয়, কারণ চীনের কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটগুলো কক্ষপথে থেকে একই ধরনের জায়গা থেকে যে মানের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, এটি তার চেয়ে খুব একটা উন্নত ছিল না।
সোমবার একজন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, বেলুনটির ধ্বংসাবশেষের বিশ্লেষণ এখনো চলমান। তবে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় এটি চীনকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য সরবরাহ করেছে বলে মনে হচ্ছে না। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেলুনটির গতিপথ সম্পর্কে তারা আগে থেকেই অবগত ছিলেন, যার ফলে সংবেদনশীল স্থানগুলো রক্ষা করা এবং বেলুনটি তথ্য সংগ্রহের আগেই কিছু সিগন্যাল সেন্সর করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছিল।
চলতি বছরের জানুয়ারির শেষদিকে আলাস্কার ওপর দিয়ে বেলুনটি প্রথম মার্কিন আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এরপর এটি কানাডা হয়ে মন্টানায় পৌঁছায় এবং কয়েকদিন সেখানে অবস্থান করে। মন্টানার ম্যালমস্ট্রম এয়ার ফোর্স বেসসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনায় নজরদারি চালানোর সন্দেহে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এটিকে ৪ ফেব্রুয়ারি পূর্ব উপকূলের অদূরে গুলি করে ভূপাতিত করে। এই ঘটনার পর ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের চীন সফর স্থগিত করা হয়।
এফবিআই এখনো বেলুনটির ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করছে। এখন পর্যন্ত কর্মকর্তারা ডিভাইসটির কার্যপদ্ধতি, এর সফটওয়্যারে ব্যবহৃত অ্যালগরিদম এবং এটি কীভাবে পরিচালিত ও নকশা করা হয়েছে সে বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চীনা সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত এ ধরনের বেলুনের একটি বহর শনাক্তের পদ্ধতি তৈরি করেছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নজরদারি কর্মসূচিটি আংশিক চীনের হাইনান প্রদেশ থেকে পরিচালিত হয়। যদিও মার্কিন কর্তৃপক্ষ চীনা নজরদারি বেলুনের বহরের সঠিক সংখ্যা জানে না, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্তত পাঁচটি মহাদেশে এই কর্মসূচির আওতায় অন্তত দুই ডজন মিশন পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধ ডজন ফ্লাইট মার্কিন আকাশসীমার ভেতরে ছিল। চীন অবশ্য দাবি করেছে যে, এটি একটি আবহাওয়া বেলুন ছিল যা পথ হারিয়ে মার্কিন ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটিও মূল্যায়ন করছে যে, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে মার্কিন আকাশসীমায় পাঠানো হয়েছিল কি না। তবে কর্মকর্তারা মনে করেন, চীন বেলুনটি নিয়ন্ত্রণের কিছু ক্ষমতা বজায় রেখেছিল এবং মন্টানার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় সংবেদনশীল সাইটগুলোতে নজরদারি চালাতে এটি ব্যবহার করেছিল।































