দেশের বৃহত্তম শরীয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ, শেয়ার জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২১ জনের সংশ্লিষ্টতার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। এই অভিযোগে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস. আলম) এবং ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান-ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে (২০২৪)। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ (বিএফআইইউ) দীর্ঘ তদন্ত শেষে উচ্চ আদালতে এ সংক্রান্ত একটি ৪২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। চারটি স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনটি লন্ডনভিত্তিক একটি ফরেনসিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ২০১৭ সালে সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে এস আলম গ্রুপ ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিভিন্ন বিধান লঙ্ঘন করে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই প্রক্রিয়ায় জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনকে পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্স জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ বের করে সেই অর্থ দিয়েই পুনরায় ব্যাংকের শেয়ার কিনেছিল। এছাড়া, পর্ষদে থাকা অবস্থায় এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে ব্যাংকটিকে সংকটে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
২০২৫ সালে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে দায়ের করা মামলার এজাহারে মো. সাহাবুদ্দিন, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম), ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ ও চেয়ারম্যান মিরফাত আরা বেগমসহ মোট ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে। ব্যাংকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ও সিনিয়র অফিসার আবদুচ ছামাদ বাদী হয়ে সি.আর. মামলা নং-১০২/২০২৫ দায়ের করেন। এতে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭এ, ৩৪ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, মাত্র ৮ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড প্রায় ২৫১ কোটি টাকা মূল্যের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার ক্রয় করে, যা প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া, ২৪টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করা হয়, যার অনেকগুলোরই কোনো শেয়ার মালিকানা ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কার্যক্রম ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১৪ক ও ১৪খ ধারা এবং বিএসইসি’র অধিগ্রহণ বিধিমালা ২০০২ ও ২০১৮-এর পরিপন্থী।
বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের আইনি সুরক্ষার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইসলামী ব্যাংকের আইনি সহায়তা দানকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আব্দুল কাইয়ুম জানান, বুধবার মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।





























