আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে "ঘৃণা" প্রকাশকারী বিদেশিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ বা বহিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইল। লাতিন আমেরিকার এই দেশটির বিরুদ্ধে একটি অশুভ প্রচারণা চালানো হচ্ছে দাবি করে বৃহস্পতিবার তিনি এই পদক্ষেপের কথা জানান। মাইল বলেন, "আর্জেন্টিনা প্রজাতন্ত্র এবং আর্জেন্টাইনদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বৈরি আচরণের" প্রতিক্রিয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই ডিক্রি অনুযায়ী, যেসব বিদেশি দেশটির বা দেশের মানুষের বিরুদ্ধে "ঘৃণামূলক বার্তা ছড়িয়েছেন বা উসকে দিয়েছেন" বলে বিবেচিত হবেন, তাদের আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না অথবা বহিষ্কার করা হবে। অতি-উদারপন্থী এই নেতা মূলত স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের পর তৈরি হওয়া গণপ্রতিক্রিয়াকে লক্ষ্য করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত রবিবার তিনি দাবি করেছিলেন যে, আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলের বামপন্থী সরকারগুলো একটি "আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা" চালাচ্ছে। তবে ডিক্রিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক, একাডেমিক বা আদর্শিক দ্বিমত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার এতে ক্ষুণ্ণ হবে না।
প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের পর পরই দেশটির বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপন্থী দল ‘র্যাডিক্যাল সিভিক ইউনিয়ন’-এর সভাপতি লিওনেল চিয়ারেলা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, "প্রেসিডেন্টের এই ডিক্রি অসাংবিধানিক" এবং আর্জেন্টিনার কংগ্রেসের উচিত এটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা। তিনি আরও যোগ করেন, "আর্জেন্টাইনদের ঐতিহ্য রক্ষা করে এবং কোনো অপ্রয়োজনীয় বিভাজন ছাড়াই সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হয়। জাতীয় সংবিধানকে সম্মান জানানোর মাধ্যমেই সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়।" অন্যদিকে, বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতা অগাস্টিন রসি এক্স-এ লিখেছেন, এই ডিক্রিটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতিরই প্রতিফলন।
এই জরুরি পদক্ষেপটি প্রথমে একটি সংসদীয় কমিটি পর্যালোচনা করবে। এরপর এটি প্রতিনিধি পরিষদ (ডেপুটি) এবং সিনেট উভয় কক্ষে পাঠানো হবে। আইনসভার উভয় কক্ষেই যদি ডিক্রিটি প্রত্যাখ্যাত হয়, কেবল তখনই এটি বাতিল বলে গণ্য হবে।
ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং এর পরবর্তী ঘটনাগুলো নিয়ে প্রেসিডেন্ট মাইল বেশ ক্ষুব্ধ বলে মনে হচ্ছে। গত রবিবার তিনি ব্রাজিল, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির তীব্র সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন যে তারা একটি "আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা" চালাচ্ছে। মূলত শেষ ম্যাচে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্বজুড়ে হওয়া সমালোচনার দিকেই তিনি ইঙ্গিত করেছিলেন। এদিকে, ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের অশোভন আচরণ এবং হামলার অভিযোগ তদন্ত করছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এছাড়া, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের "লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস" (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার) লেখা ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাটিও তদন্ত করছে ফিফা।























