শরীয়তপুর পৌরসভা মিলনায়তনে বুধবার সকালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা জাকির হোসেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজিরকে মারধর করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটা এই ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল জেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠান চলাকালে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ ও তার অনুসারীদের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে জাকির হোসেন ও ইমরান আল নাজিরকে মারধর করা হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মিলনায়তন থেকে বের করে দেওয়ার পরও বাইরে তাদের ওপর চড়-থাপ্পড় চালানো হচ্ছে। ঘটনার প্রতিবাদে পরে আহত জুলাই যোদ্ধা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
ভুক্তভোগী জাকির হোসেন জানান, সরকার তদন্ত সাপেক্ষে তাকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা আমাকে ও অন্যদের মারধর করে বের করে দেন। অন্যরা রক্ষা না করলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’ অপর ভুক্তভোগী ইমরান আল নাজির প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এমন হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপির অবদান ছিল। তার ভাষ্যমতে, ইমরান আল নাজিরসহ এনসিপির কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমান ও তার পরিবার নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। অনুষ্ঠানেও তারা একই ধরনের আচরণ করায় কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় থাকা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন জানান, শহীদ পরিবারের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। তিনি মঞ্চ থেকে মাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। ওই সময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা মঞ্চের সামনের সারিতেই উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনেই এই মারধরের ঘটনা ঘটে, যার ভিডিও ফুটেজ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তানভীর হোসেন কোনো মন্তব্য না করেই স্থান ত্যাগ করেন। জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানান, অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘যে অভিযোগ এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রাথমিকভাবে জেনেছি, ঘটনাটি সম্ভবত আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরুর আগেই ঘটেছে।’ অনুষ্ঠান শুরুর পর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি দাবি করেন।
ইউএনও প্রথম আলোকে বলেন, ‘তখনো শহীদদের পরিবারের সদস্যরা সভাস্থলে এসে পৌঁছাননি।
মারধরের ঘটনায় অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনা তৈরি হয়।
তখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ জানাই।
পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর আমরা সংবর্ধনার অনুষ্ঠানটি শুরু করি।’
সূত্র: প্রথম আলো
























