গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় চ্যান-হোম জাপানের বৃহত্তর টোকিও অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবার রাতে ইবারাকি প্রিফেকচারের দক্ষিণ অংশে স্থলভাগে প্রবেশের পর ঝড়টি বুধবার পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ঝড়টি ঘণ্টায় ৬৪ কিলোমিটার (৪০ মাইল) বেগে বাতাসের ঝাপটা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯৫১ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে ইবারাকিতে কোনো ঝড় বা টাইফুনের এটিই প্রথম স্থলভাগে আঘাত হানার ঘটনা।
ঝড়ের প্রভাবে ইবারাকি এবং পার্শ্ববর্তী তোচিগি প্রিফেকচারে বুধবার সকাল পর্যন্ত ৩ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল বলে টেপকো পাওয়ার গ্রিড জানিয়েছে। টোকিও শহরের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ওমোতেসান্দোর মতো অভিজাত শপিং এলাকাও রয়েছে। তবে এনএইচকে পাবলিক টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।
প্রিফেকচার কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ঝড়ের কারণে পাঁচজন সামান্য আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ইবারাকিতে তিনজন নারী এবং ইওয়াতে প্রিফেকচারের উত্তরাঞ্চলে দুইজন পুরুষ রয়েছেন। জাপানের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পূর্বপুরুষদের স্মরণের উৎসব ‘বন’ চলাকালীন সময়ে এই ঝড় আঘাত হানায় অনেক ভ্রমণকারী ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ইবারাকির জনপ্রিয় ওরাই সৈকতটি ঝড়ের কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
পরিবহন ব্যবস্থায়ও ঝড়ের প্রভাব পড়েছে। মঙ্গলবার টোকিও’র হানেদা বিমানবন্দরে প্রায় ৬০টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। তবে বুধবার নাগাদ টোকিও’র ট্রেন চলাচল এবং বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমও প্রায় স্বাভাবিক গতিতে ফিরেছে। তবুও আবহাওয়া সংস্থা জাপানের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে দিনভর ভারী বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাতের সতর্কতা জারি রেখেছে।
ঝড়টি বর্তমানে জাপানের মধ্যাঞ্চলীয় গিফু শহরের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং এটি জাপানের উত্তর-কেন্দ্রীয় উপকূলের ওয়াকাসা উপসাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চ্যান-হোমের আঘাতের কয়েক দিন আগেই টাইফুন ডলফিন জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিল। ডলফিনের প্রভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছিল এবং শত শত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয়েছিল।
টাইফুন ডলফিন পরবর্তীতে দুর্বল হয়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে রূপ নেয়। ফিলিপাইনে এই ঝড়ের আঘাতে ১০ জন নিহত হয়েছেন এবং চীনে ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে কয়েক লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জাপান বেশ কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঝড় জ্যাংমি, টাইফুন শানশান, ভারী বৃষ্টিপাতে বন্যা, জাপানের চিড়িয়াখানায় তিনটি সিংহের মৃত্যু এবং ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, যাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ





























