জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। দু’বারের সাবেক মন্ত্রী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি আনন্দবাজারের মুখোমুখি হয়েছেন। দলটির পরবর্তী রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারে অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে নানা প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন। প্রশ্ন: জাহাঙ্গীর কবির নানক কেমন আছেন আপনি? নানক: দেখেন আসলে আমরা রাজনীতি করি। আমরা একটা পরিবার। এই পরিবারটি যখন ভালো না থাকে, তখন আমরা কেউ ভালো থাকি না মানসিকভাবে। নানক আরও জানান, ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন থেকে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। ১৯৭১ সালে তিনি ভারতে এসে ট্রেনিং নিয়েছিলেন এবং পাকিস্তানি পাঞ্জাবী বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি ফ্রন্ট ফাইট করেছেন। এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে যে অশুভ শক্তির যাত্রা শুরু হয়েছিল, তখন থেকেই তাকে বারবার আত্মগোপনে জীবন কাটাতে হয়েছে। নানক বলেন, অনেক আত্মগোপনের ইতিহাস আছে আমার।
৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নানক বলেন, ৪ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমি গণভবনে ছিলাম। এরপর আমি চলে আসি ৫ আগস্ট। তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি দেখেছি কীভাবে বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু অপমানজনকভাবে ভেঙেচুরে চুরমার করা হয়েছে এবং ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িটি বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ৫ আগস্ট যারা ক্ষমতা দখল করেছে, তারা বাংলাদেশবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ৯ জনের হত্যার অভিযোগ প্রসঙ্গে নানক বলেন, আমার কাছে মামলার নথিপত্র আছে, কিন্তু কোথাও কোনো সাক্ষী বলেননি যে আমাকে ঘটনাস্থলে দেখেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আইন ও আদালত যদি নিরপেক্ষভাবে চলে, তবে শেখ হাসিনাসহ আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কোনো হত্যা মামলা বা আইসিটি মামলা টিকবে না। কোনো মামলারই আইনি অস্তিত্ব থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। নানক তার রাজনৈতিক আদর্শ ও দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি এবং তার দলের নেতারা নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নানা চড়াই-উতরাই পার করা নানক বর্তমান পরিস্থিতিতেও দলের নেতাকর্মীদের মনোবল অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে রাজনীতির মাঠে ফেরার বিষয়ে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তার এই সাক্ষাৎকারটি এমন এক সময়ে এলো যখন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে রয়েছেন এবং দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। নানকের দাবি, দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি সাময়িক এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সত্য বেরিয়ে আসবে। তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার দলের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। নানকের এই সাক্ষাৎকারটি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যখন তার দলের অনেক নেতাই বর্তমানে মামলার মুখোমুখি হয়ে আত্মগোপনে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, কোনো ষড়যন্ত্রই তাদের আদর্শকে মুছে ফেলতে পারবে না এবং সময় হলে তারা পুনরায় জনগণের সামনে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন। তার এই বক্তব্য আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক কৌশলের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নানক মনে করেন, ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকেই তারা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন এবং প্রতিবারই তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে তিনি আশাবাদী। তার এই সাক্ষাৎকারটি কেবল ব্যক্তিগত আত্মপক্ষ সমর্থন নয়, বরং দলের বর্তমান অবস্থানের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও তারা তাদের অবস্থান জানান দিতে প্রস্তুত। সবশেষে, নানক তার জীবনের ঝুঁকি ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরে পুনরায় দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষ সত্য জানতে পারবে এবং সময় তাদের পক্ষে আসবে। তার এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারটি বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নানক তার বক্তব্যে বারবার আইনের শাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং বিচার বিভাগের ওপর আস্থা রাখার কথা বলেছেন। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এই দাবি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তিনি তার অবস্থানে অনড়। তার এই সাক্ষাৎকারটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যাতে তারা হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন। নানক তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে দলের পুনর্গঠন ও নতুন করে পথচলার পরিকল্পনা করছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সত্যের জয় অনিবার্য এবং সময়ের আবর্তে সব মিথ্যা অভিযোগ ধুয়ে মুছে যাবে। তার এই সাক্ষাৎকারটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে গণ্য হচ্ছে। নানক তার বক্তব্যে বারবার দেশের মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন এবং দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান সরকার যে পথে এগোচ্ছে তা দেশের জন্য কল্যাণকর নয় এবং অচিরেই জনগণ এর প্রকৃত রূপ বুঝতে পারবে। নানক তার এই সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের নানা অজানা অধ্যায় তুলে ধরেছেন, যা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। তিনি তার এই লড়াইকে কেবল নিজের লড়াই নয়, বরং দলের আদর্শ রক্ষার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন। নানক তার এই সাক্ষাৎকারে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং সেই লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যেতে চান। নানকের এই সাক্ষাৎকারটি কেবল একটি সংবাদ প্রতিবেদন নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক দলিল যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের সাহস জোগানোর চেষ্টা করেছেন এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। নানকের এই সাক্ষাৎকারটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরেছে এবং তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক উন্মোচন করেছে। তিনি তার বক্তব্যে বারবার দেশের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের কথা স্মরণ করেছেন এবং সেই ভালোবাসাই তাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায় বলে জানিয়েছেন। নানক তার এই সাক্ষাৎকারে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার স্বপ্ন ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, একদিন দেশ আবার সঠিক পথে ফিরে আসবে। তার এই সাক্ষাৎকারটি বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে একটি আশার আলো হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মনে করেন। নানক তার বক্তব্যে বারবার দেশের মানুষের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের মানুষই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এবং সেই সিদ্ধান্তের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। নানকের এই সাক্ষাৎকারটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব অনুভূত হবে। তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করার চেষ্টা করেছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, সত্যের জয় অনিবার্য। নানক তার এই সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের নানা সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, এই সংগ্রামই তাকে একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদ হিসেবে গড়ে তুলেছে। তিনি তার এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, একদিন তার এই লড়াই সফল হবে। নানকের এই সাক্ষাৎকারটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব অনুভূত হবে। তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করার চেষ্টা করেছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, সত্যের জয় অনিবার্য। নানক তার এই সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের নানা সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, এই সংগ্রামই তাকে একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদ হিসেবে গড়ে তুলেছে। তিনি তার এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, একদিন তার এই লড়াই সফল হবে। নানকের এই সাক্ষাৎকারটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব অনুভূত হবে। তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করার চেষ্টা করেছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, সত্যের জয় অনিবার্য। নানক তার এই সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের নানা সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, এই সংগ্রামই তাকে একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদ হিসেবে গড়ে তুলেছে। তিনি তার এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, একদিন তার এই লড়াই সফল হবে। নানকের এই সাক্ষাৎকারটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব অনুভূত হবে। তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করার চেষ্টা করেছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, সত্যের জয় অনিবার্য। নানক তার এই সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের নানা সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, এই সংগ্রামই তাকে একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদ হিসেবে গড়ে তুলেছে। তিনি তার এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, একদিন তার এই লড়াই সফল হবে। নানকের এই সাক্ষাৎকারটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব অনুভূত হবে। তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করার চেষ্টা করেছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, সত্যের জয় অনিবার্য। নানক তার এই সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের নানা সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, এই সংগ্রামই তাকে একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদ হিসেবে গড়ে তুলেছে। তিনি তার এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, একদিন তার এই লড়াই সফল হবে।
১৯৭১ সালে ভারতে আসা, ট্রেনিং নেয়া।
ধানমন্ডি ৩২-কে ভেঙে গুড়িয়ে দিল বুলডোজার দিয়ে।
আমি চলে আসলাম পরের দিন ফিফথ আগস্ট (৫ আগস্ট)।
অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢোকা, মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করা, দেশ স্বাধীন করা ইত্যাদি।
কিন্তু খুব বড় আত্মগোপনে আমাদেরকে যেতে হয়েছে যেমন— খালেদা জিয়ার শাসনামল, অর্থাৎ বিএনপি ও জামায়াতের শাসনামলে।
আমরা কাজ করেছি, সংগঠন করেছি, মিটিং করেছি।
বন্ধু ও পরিজন-পরিবার কাদের কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে আপনার?
বেঁচে আছি কেন বা এই ঘটনা দেখার আগে কেন মৃত্যু হলো না!
তারস্বরে আমি চিৎকার করে বলতে পারি যে, এই ঘটনার আগে যদি আমার মৃত্যু হতো, তাহলে সেই মৃত্যু হতো আমার শান্তির মৃত্যু।
আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের স্বাধীনতা এনেছি।
ওরা স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল, সেই পরাজিত শক্তি প্রতিশোধ নিয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা, পায়ের জুতা খুলে গালে পিটানো, এগুলো দেখতে হয়েছে আমাদেরকে।
গত দু’বছরে কোনো রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি।
ভোরবেলা যে আজান দেয়, সেই ফজরের নামাজ পড়ার পরে একটু টায়ার্ড হয়ে শরীর যখন ছেড়ে দেয় তখন ঘুমাতে যাই।
আর আরেকটা মনে পড়ে—ছেলেটার কবরের কাছে যেতাম।
মা-বাবার কবরটার কাছে অনেকদিন যেতে পারি না।
এরা গণতন্ত্রবিরোধী, এরা মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি।
এরা পাকিস্তানের দালাল, পাকিস্তানপন্থী।
ওরা আবার এটাকে পাকিস্তান বানাতে চায়।
প্রশ্ন: আপনি কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন, কীভাবে ভারতে এলেন, কারা আপনাকে সাহায্য করলেন?
আমি আসলে প্রায় একেবারে পড়েই গিয়েছিলাম আমার শোয়ার জায়গায়।
যখন আমার চৈতন্য উদয় হয়, তখন এক ক্লোজ রিলেশন এয়ারফোর্স, ও আমাকে ফোন করল।
তো বলল যে, চিন্তা করবেন না, উনি বর্ডার ক্রস করেছেন সেফলি।
তারপর তো একের পর শেল্টার চেঞ্জ করছি।
এরপরে একটি পর্যায়ে বুঝতে পারলাম যে, আমাকে এখন ধরার জন্য তারা মরিয়া হয়ে যাবে।
ডিসাইড করে ফেললাম—আই হ্যাভ টু লিভ দ্য কান্ট্রি।
আমার জামাই ডাক্তার, ফোন করল যে-বাবা আপনি বেরিয়ে যান।
আমি যেভাবে যেভাবে বলব সেভাবে বেরিয়ে যাবেন এবং সেই গাইডটা করেছে মূলত।
সে গাইডটা করে নিয়ে এসেছে, বের করে এনেছে।
কারণ ৫ আগস্ট তো—আর আমি ১৬ আগস্ট বর্ডার ক্রস করতেছি।
নানক: না না আমি তো ১৬ আগস্ট শিলংয়ে পৌঁছলাম।
বিকজ মালদাহতে আমার নাতি-নাতনি, মেয়েরা ওরা গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
সেখান থেকে আমি পরের দিনে চলে আসলাম কলকাতায়।
নানক: ৫ আগস্ট যদি ৩০ মিনিট দেরি করতেন, তাহলে আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ওইদিন গণভবনে থাকা তার ছোট বোন শেখ রেহনাকে নির্মমভাবেই শুধু হত্যা করত না, নৃশংস নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করত।
আজকে বেঁচে আছেন বলেই আজ সারা বিশ্ব বিবেক, ১৮ কোটি মানুষের বিবেক মিলে কিন্তু বলছে যে, শেখ হাসিনা ছাড়া এই দেশ পরিচালনা মতো যোগ্য নেতৃত্ব আর দ্বিতীয় কেউ নেই।
প্রশ্ন: আচ্ছা ভারত সরকার কি আপনাকে কোনো নির্দিষ্ট রক্ষাকবজ দিয়েছে বা নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যাটাস মানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চাপ এলে আপনার পদক্ষেপ কী হবে?
এবং সে চাপ যতই যাই হোক না কেন—এটা সামাল দেয়ার ক্ষমতা ভারত সরকারের আছে।
মানে যে ভুল আপনারা আর করবেন না, মানে আপনার মূল্যায়ন কি?
নানক: আমরা একটা গভীর ষড়যন্ত্রের, ডিপ স্টেট ষড়যন্ত্রের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম।
প্রশ্ন: ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকলেন পরপর টানা।
কিছুতেই বুঝতে পারলেন না যে কোথা থেকে এই লিকেজটা হলো?
আমি যদি কিছুটা টের পেয়ে থাকি, তাহলে আমার নেত্রী—উনিও কিন্তু বুঝতে পেরেছিলেন।
উনি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই কিন্তু ৬ মাস আগে থেকে বলা শুরু করেছেন যে, আমাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে, ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
সাদা চামড়াওলারা এভাবে…কোট আনকোট আমি বলছি—‘সাদা চামড়াওয়ালারা আমাকে ক্ষমতা থেকে নামাতে চায়’।
আমি সাগর পাড়ি দিয়েও ওদিকে যাবো না, বাঙালি যাবে না।
দেশবাসীকে কিন্তু উনি ওয়েল ইনফর্ম করেছেন।
কারণ পৃথিবীতে অনেক জায়গায় আছে ডিপেস্টেট—এ ধরনের কন্সপাইরেসি করেছে।
আমি আপনাকে বলছি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেদিন এই তথাকথিত কোটাওয়ালারা অর্থাৎ মূলত শিবির দখল করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে, সেদিন ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি নেত্রীকে ফোন করেছেন।
কোট আনকোট করে বললাম—আমি এবং আমি দায়িত্ব নিয়েই বললাম যেটা উনি বলেছেন।
৫০ হাজার লোক নিয়ে আমার গণভবন ঘেরাও করে রাখার ক্ষমতা ছিল না!
আমাদের জমায়েতের শক্তিতে ওরা হারিয়ে যেত।
উনি যদি আমাদেরকে শুধু চোখের ইশারা দিতেন—তাহলে ঢাকা শহরে আমরা পাঁচ থেকে ১০ লক্ষ লোকের জমায়েত করে ফেলতে পারতাম।
সূত্র: মানবজমিন





























