২০২৪ সালে জর্জিয়ার একটি হাই স্কুলে চারজনকে হত্যার দায়ে এক কিশোরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের কয়েক দিন পরেই, তার বাবাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৫৫ বছর বয়সী কলিন গ্রে-কে তার ছেলের হাতে সেই বন্দুকটি তুলে দেওয়ার দায়ে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে মাস শ্যুটিংয়ের ঘটনাটি ঘটানো হয়েছিল।
চলতি বছরের মার্চ মাসে কলিন গ্রে-র বিরুদ্ধে ২৭টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, যার মধ্যে দ্বিতীয় মাত্রার হত্যা, অনিচ্ছাকৃত নরহত্যা, বেপরোয়া আচরণ এবং শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার মতো গুরুতর অপরাধ অন্তর্ভুক্ত ছিল। মাত্র দুই ঘণ্টারও কম সময়ে বিচারকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান। তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে কোল্ট গ্রে গত সেপ্টেম্বরে অ্যাপালাচি হাই স্কুলে হামলার ঘটনায় ৫৫টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিচারে কলিন গ্রে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জানান, তিনি বড়দিনের উপহার হিসেবে ছেলেকে রাইফেলটি দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি জানতেন না যে তার ছেলে এমন ভয়াবহ কিছু ঘটাতে পারে। আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন এটি নিয়ে লড়াই করছি।”
অন্যদিকে, প্রসিকিউটর প্যাট্রিসিয়া ব্রুকস সমাপনী যুক্তিতর্কে দাবি করেন, কলিনের বোঝা উচিত ছিল তার ছেলে কতটা বিপজ্জনক। তিনি বলেন, “এই মামলাটি ছিল কে কোল্টকে অস্ত্র দিয়েছে এবং তাকে এমন কাজ করার সক্ষমতা তৈরি করে দিয়েছে, তা নিয়ে।”
বিচারক নিকোলাস প্রিম এই রায় ঘোষণার সময় বিষয়টিকে জর্জিয়ার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কলিন গ্রে “একজন অভিভাবক হিসেবে ব্যর্থ হয়েছেন” এবং শ্যুটিংয়ের আগে পরিস্থিতি যে খারাপের দিকে যাচ্ছে তা স্পষ্ট ছিল। তবে বিচারক এও স্বীকার করেন যে, কলিন গ্রে তার ছেলের পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকে অবগত ছিলেন না এবং তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এই অপরাধ সংঘটন করেননি। বিচারক প্রিম বলেন, “এটি গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি কাউকে ক্ষতি করতে চাননি এবং আপনি নিজে ট্রিগার টানেননি।”
জর্জিয়ার নতুন আইনের অধীনে দ্বিতীয় মাত্রার হত্যার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কলিন গ্রে-র এই সাজা ভবিষ্যতে একই ধরনের মামলায় প্রসিকিউটরদের আরও কঠোর হতে উৎসাহিত করবে।
কোল্ট গ্রে-র সাজা ঘোষণার সময় ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট কেভিন রিচার্ডস জানান, পারিবারিক কলহ, আর্থিক সংকট এবং মাদকাসক্তির কারণে কিশোরটি মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। জর্জিয়া ডিভিশন অফ ফ্যামিলি অ্যান্ড চিলড্রেন সার্ভিসেসের প্রধান ক্যান্ডিস ব্রোস জানান, এই পরিবারের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন ও অবহেলার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা আদালতে আবেগঘন সাক্ষ্য দিয়ে কলিন গ্রে-র সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন। এই ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী ম্যাসন শার্মারহর্ন ও ক্রিশ্চিয়ান অ্যাঙ্গুলো এবং ৩৯ বছর বয়সী শিক্ষক রিচার্ড অ্যাসপইনওয়াল ও ৫৩ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা ইরিমি নিহত হন।
নিজের সাজা ঘোষণার সময় কলিন গ্রে কোনো মন্তব্য করেননি। তার আইনজীবী ব্রায়ান হবস আদালতের কাছে ২০ বছরের সাজা চেয়ে যুক্তি দেন যে, এটি মিশিগানের ক্রাম্বলি দম্পতির সাজার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। হবস আরও বলেন, এই সাজা যেন জর্জিয়াকে একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দাঁড় না করায়। তবে বিচারক প্রিম তার রায়ে ১৫ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখেন।






























