গ্রীষ্মের ছুটির আমেজে কেনাকাটা বা ঘোরাঘুরির সময় এখন স্মার্টফোন বা স্মার্টওয়াচের ট্যাপ-টু-পে প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণার নতুন ফাঁদ পেতেছে অপরাধীরা। ডেট্রয়েট মেট্রো এলাকার এক ২৯ বছর বয়সী তরুণী সম্প্রতি এমন এক অভিনব জালিয়াতির শিকার হয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ জুন, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে। ওয়ালমার্টের সামনে দুই ব্যক্তি নিজেকে শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে কলেজ ট্যুরের জন্য অনুদান সংগ্রহ করছে বলে ওই তরুণীর কাছে সহায়তা চায়। তরুণী তাদের ৫০ ডলার অনুদান দিতে সম্মত হন। কিন্তু পেমেন্ট করার সময় তিনি ট্যাপ-টু-পে সিস্টেমের স্ক্রিনে টাকার পরিমাণ যাচাই না করেই লেনদেন সম্পন্ন করেন। পরে রাতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চেক করে তিনি দেখতে পান যে, তার অজান্তেই ৫০ ডলারের পরিবর্তে মোট ১,০০০ ডলার কেটে নেওয়া হয়েছে।
এই ধরনের প্রতারণা কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বেটার বিজনেস ব্যুরোর তথ্যমতে, এর আগেও কেউ কেউ ক্যান্ডি বিক্রির নামে বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সহায়তার কথা বলে ট্যাপ-টু-পে ব্যবহার করে ৫৩৭ ডলার থেকে শুরু করে ১,১০০ ডলার পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এমনকি কার্ড বা ফোন স্পর্শ না করেও ওয়্যারলেস ডিভাইসের মাধ্যমে অর্থ চুরির এক পদ্ধতি রয়েছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা 'ঘোস্ট ট্যাপিং' বলে অভিহিত করছেন।
এএআরপি ফ্রড ওয়াচ নেটওয়ার্কের ভিকটিম সাপোর্ট বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর অ্যামি নফজিগার জানিয়েছেন, প্রতারকরা কৌশলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং দ্রুত ট্যাপ-টু-পে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয়। অনেক সময় ভুক্তভোগীরা বুঝতেও পারেন না যে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে কীভাবে টাকা কাটা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, অপরিচিত কেউ সাহায্য চাইলে সরাসরি 'না' বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কোনো অজানা ব্যক্তি বা সংস্থার কাছে অর্থ সাহায্য না করার নীতি মেনে চলা এবং পাবলিক প্লেসে নিজের ফোন বা কার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। যদি কেউ প্রতারণার শিকার হন, তবে দ্রুত ব্যাংক বা কার্ড প্রদানকারী সংস্থাকে বিষয়টি জানাতে হবে। এএআরপি ফ্রড ওয়াচ নেটওয়ার্কের হেল্পলাইন ৮৭৭-৯০৮-৩৩৬০ নম্বরে যোগাযোগ করেও ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেতে পারেন।


























