মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালীকে (এসওএমএস) আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য নিরাপদ, উন্মুক্ত ও মুক্ত রাখতে নিজেদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ১৭তম সহযোগিতা ফোরামে (কো-অপারেশন ফোরাম) তিন দেশের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবারের এই বৈঠকে তিনটি দেশই নিশ্চিত করেছে যে, ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন (ইউএনসিএলওএস) এবং আন্তর্জাতিক প্রথাগত আইন অনুযায়ী মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য একটি ট্রানজিট পথ হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যেখানে ট্রানজিট পারাপারের অধিকার প্রযোজ্য।
এই উপকূলীয় দেশগুলো নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যবহারকারী দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, সামুদ্রিক শিল্প এবং অন্যান্য অংশীজনদের যৌথ দায়িত্ব ও অবদানের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।
সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রী জেফরি সিউ ফোরামের উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, "তিনটি উপকূলীয় রাষ্ট্রই পুনরায় স্বীকার করেছে যে এই নৌপথগুলোকে নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং উন্মুক্ত রাখা সবার স্বার্থেই জরুরি।" তিনি মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালীকে বিভিন্ন দেশের নিবিড় সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেন।
জেফরি সিউ আরও উল্লেখ করেন, "অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর আমাদের জলসীমায় নৌচলাচলের নিরাপত্তা বাড়াতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে, এমনকি যেসব এলাকায় সমুদ্রসীমা নিয়ে অমীমাংসিত বিরোধ রয়েছে সেখানেও।" তিনি বলেন, মতভিন্নতা থাকলেও দেশগুলো কখনো সহযোগিতার ক্ষেত্রে স্থবিরতা আসতে দেয়নি। বিশ্বের মোট সমুদ্রগামী বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ (চার ভাগের এক ভাগ) এই মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা কেবল উপকূলীয় দেশগুলোকেই নয়, বরং পুরো বিশ্বকেই উপকৃত করছে।




























