হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ‘বড় ও শক্তিশালী’ হামলা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। এই হামলার পর তেহরানকে চরম পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি পাল্টা আঘাত করার চেষ্টা করে তবে তাদের বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে সমুদ্র মাইন স্থাপনের একটি ‘ব্যর্থ চেষ্টা’ এবং জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জর্ডানের ঘাঁটিতে ছোঁড়া আটটি ক্ষেপণাস্ত্রের সবকটিই সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “ইরান যদি এই অত্যন্ত যৌক্তিক হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাদের আরও কঠিন এবং উচ্চ মাত্রায় আঘাত করা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, একটি বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে, যা ইরানের ‘খুব কম অংশই’ অবশিষ্ট রাখবে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের সেসব রাডার সাইট লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যা তারা নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। ট্রাম্প বলেন, “তারা তাদের রাডার পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছিল কারণ তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছিল না… আমরা এটি প্রায় তৈরি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলাম এবং তারপর আঘাত হেনেছি।” কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়টিকে নাকচ করে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি এখন আমাদের অবস্থানকে অনেক ভালো মনে করছি, যেখানে হরমুজ প্রণালীর প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে এবং তাদের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।”
অভিযানের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে জানিয়েছেন, নতুন ‘ট্যাঙ্কারের বিপরীতে ট্যাঙ্কার’ নীতির আওতায় এই প্রথমবারের মতো ইরানের দুটি সরকারি তেল ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ড্রোন থেকে ইরানের উপকূলের কাছে নোঙর করে রাখা ওই দুটি জাহাজের ইঞ্জিন রুমে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়。
মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার সিস্টেম, মাইন স্থাপনকারী সরঞ্জাম এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সাইট। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, বাণিজ্যিক জাহাজে হুমকি সৃষ্টিকারী আইআরজিসি ইউনিটগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান যাতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির সক্ষমতা পুনরায় গড়ে তুলতে না পারে, সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের ফলে অন্তত এক মাসের জন্য হুমকির মাত্রা হ্রাস পেয়েছে।
এর জবাবে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় ২৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত এবং ইরাকের ইরবিলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। মার্কিন বাহিনী এসব প্রজেক্টাইলের বেশিরভাগই প্রতিহত করেছে। বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে দুই ডজন ড্রোন পাঠানো ছাড়াও কুয়েত এবং ইরাকের ইরবিলে মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তেহরান, যার বেশিরভাগই ভূপাতিত করা হয়েছে।





























