ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস, বীমা সংস্থা এবং রাশিয়ার প্রধান বিমানবন্দরগুলো ব্যবহারকারী সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার আকাশপথ এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ইউক্রেন তাদের ড্রোন হামলার মাত্রা বাড়ানোর পরিকল্পনা করায় তিনি এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতের এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার আকাশে ড্রোন হামলার সংখ্যা এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যা এয়ারলাইনসগুলোর বিবেচনায় রাখা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন বেসামরিক বিমান চলাচলকে হুমকি দিচ্ছে না এবং কোনো বেসামরিক বিমানের ক্ষতি হোক তা তারা চায় না।
জেলেনস্কির এই সতর্কবার্তা মূলত সেই সব এয়ারলাইনসকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়েছে, যারা এখনো মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো বড় শহরগুলোর বিমানবন্দরগুলোতে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি স্থাপনা এবং বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিস ও ওজোনের ডিপোগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে রাশিয়ার প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে বারবার ফ্লাইট বিঘ্নিত হচ্ছে। রাশিয়ার নিজস্ব 'কোভিয়োর' বা কার্পেট প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় ড্রোন শনাক্ত হলেই বিমান চলাচল স্থগিত করতে হয়। বুধবারও বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া গেছে।
জেলেনস্কির এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিরগিজস্তানে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে পুতিন বলেন, জেলেনস্কির এই বক্তব্য 'রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের ঘোষণা'র শামিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাশিয়ার ওপর হামলা অব্যাহত থাকলেও তারা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবেন না। পুতিন স্বীকার করেন যে ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে, তবে দাবি করেন যে রাশিয়ার মাত্র ১০ শতাংশ তেল শোধনাগার মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে।
বর্তমানে তুরস্ক, চীন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর এয়ারলাইনসগুলো এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যাতায়াতের জন্য রাশিয়ার আকাশপথ ব্যবহার করে থাকে, যা তাদের জ্বালানি ও সময় সাশ্রয় করে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে বেশিরভাগ পশ্চিমা এয়ারলাইনস রাশিয়ার আকাশপথ এড়িয়ে চলছে। ইউক্রেনও যুদ্ধের শুরু থেকেই তাদের নিজস্ব আকাশপথ বেসামরিক বিমানের জন্য বন্ধ রেখেছে।
অস্প্রে ফ্লাইট সলিউশনস নামক একটি ঝুঁকি পরামর্শক সংস্থা তাদের ক্লায়েন্টদের সতর্ক করে জানিয়েছে, ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সীমান্ত থেকে ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, রাশিয়ার গভীরে প্রতিদিন হামলা চালানোর সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। এদিকে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। মঙ্গলবার রাশিয়ার হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছে এবং কিয়েভ, ওডেসা ও সুমিতে হামলা অব্যাহত রয়েছে। কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে টানা সাত দিন ধরে হামলা চলছে।
আকাশপথে যুদ্ধের ঝুঁকি প্রসঙ্গে অতীতেও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট এমএইচ১৭ ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ২৯৮ জন নিহত হন। গত বছর জাতিসংঘ সমর্থিত সংস্থা জানায়, এই ঘটনার জন্য রাশিয়া দায়ী। এছাড়া ২০২৪ সালে রাশিয়ার আকাশসীমায় ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করার সময় রাশিয়ার নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলে একটি বাণিজ্যিক বিমান ভূপাতিত হয়, যাতে ৩৮ জন নিহত হন। ওই ঘটনার জন্য পুতিন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন।






























