কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে কড়া ভাষায় বলেছেন, তাদের এখন সময় হয়েছে 'মিম বানানো বা শক্ত হওয়ার চেষ্টা' বন্ধ করার। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা সাম্প্রতিক ধারাবাহিক আক্রমণের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গত ২১ আগস্ট বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটনের সাথে কানাডার সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। কার্নি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি আলোচনার বিষয়ে আন্তরিক হয়, তবেই কানাডা পুনরায় আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন সব শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা কানাডার শিল্প খাতকে দুর্বল করে দেবে এবং একসময় এগুলো বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। কার্নির মতে, এটি কোনো গঠনমূলক পথ নয়, তবে তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের অংশ হিসেবেই দেখছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় কানাডাকে নিয়ে বিদ্রুপ করছেন এবং অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে 'লেক আমেরিকা' রাখার মতো মন্তব্য করেছেন। এছাড়া মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, কানাডা তাদের অর্থনীতির তুলনায় ১৩ গুণ বড় মার্কিন অর্থনীতির সাথে 'তিত ফর তাত' বা সমানে সমান লড়াই করতে পারবে না।
সম্প্রতি মার্কিন যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথ কানাডার সামরিক বাহিনীকে উপহাস করে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুইজন নারী ক্যাডেটের ছবি পোস্ট করেন এবং ক্যাপশনে লেখেন 'এটি বাস্তব'। কার্নি এই পোস্টকে 'তাদের পদের মর্যাদার সাথে মানানসই নয়' বলে সমালোচনা করেছেন। তবে পেন্টাগন মঙ্গলবার জানিয়েছে, 'এক্স পোস্টটি নিজেই নিজের কথা বলছে।'
কার্নি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কানাডা এমন কোনো শর্ত মেনে নেবে না যা তাদের শিল্প খাতকে মার্কিন কোম্পানির অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে। এদিকে, সোমবার কানাডার তিনটি বিশেষ নির্বাচনে লিবারেল পার্টির জয় কার্নিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। এর মধ্যে কুইবেকের চিকুউটিমি-লে ফর্ড এলাকায় বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে দলটি, যেখানে কনজারভেটিভরা তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। এই জয়ের ফলে ৩৪৩ আসনের হাউস অব কমন্সে লিবারেলদের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৩।
টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক নেলসন ওয়াইজম্যানের মতে, ট্রাম্পের কানাডাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার হুমকি বা সংযুক্তি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা কুইবেকের ভোটারদের মধ্যে বিশেষ প্রভাব ফেলে। তিনি মনে করেন, কানাডা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিশে যায়, তবে কুইবেকের মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ফরাসি ভাষার অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে।



























