ক্রীড়া ও সংস্কৃতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্র যেভাবে সংবর্ধনা ও সম্মান জানায়, আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের তিনি সংবর্ধনা প্রদান করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বমঞ্চে বারবার বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করা সত্ত্বেও কোরআনের হাফেজদের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, কওমি শিক্ষা ব্যবস্থা ও হিফজ ধরে রাখা শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের কোনো প্রতিশ্রুতি বা দায়বদ্ধতা নেই, যা এক ধরনের বৈষম্য। এ বছর মক্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব তাহফিজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে চারজন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন এবং চারজনই বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রথম এবং তিনজন তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। তিনি বিজয়ী হাফেজদের শুধু সংবর্ধনা নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও যথাযথ সম্মান জানানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আবদুল কাইয়ুম মোল্লা জানান, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া চারজন শিক্ষার্থী মোট আড়াই কোটি টাকার পুরস্কার অর্জন করেছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে রাষ্ট্র থেকে তারা কোনো সম্মাননা বা সহযোগিতা পাননি। তিনি দাবি জানান, ভবিষ্যতে যেকোনো বিশ্বমানের কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের যেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারী আল রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নূর উদ্দিন জাকারিয়া বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে তৃতীয় স্থান অধিকারী রাবেতা বিনতে রমজানসহ মাদ্রাসার শিক্ষক ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে সরকারি দলের এমপিদের ‘প্রিম্যাচিউর’ বা অপরিপক্ক মন্তব্যের বিষয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, চব্বিশের আগস্টের পর যে সমাজ প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা না দেখতে পাওয়ার কারণেই জনগণের পক্ষে নৈতিক দায়িত্ব পালনে তারা এই কর্মসূচি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘যিনি প্রিম্যাচিউরিটি নিয়ে কথা বলেছেন, আমি তার জন্য দোয়া করি যেন আল্লাহ তাকে ম্যাচিউরিটি দান করেন। বর্তমান সমাজে ম্যাচিউরিটির জ্বালায় মানুষ অতিষ্ঠ, আমরা সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাই।’ প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিরোধী দলের লংমার্চ প্রিম্যাচিউর টাইমে হচ্ছে বলে সরকারি দলের এমপিরা যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, সে প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, ‘যে সমাজটা আমরা চেয়েছিলাম চব্বিশের আগস্টের পর, সেই সমাজটা আমরা দেখতে পাচ্ছি না বলেই আমাদের পেরেশানির। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি রাজধানীর উত্তরার তানজিমুল উম্মাহ গার্লস হিফজ মাদ্রাসার (অনাবাসিক শাখা) শিক্ষার্থী।
সূত্র: প্রথম আলো






























