ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে আয়োজিত একটি ড্রোন প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেন জুড়ে রুশ বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় মোট ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে কিয়েভের এই ড্রোন মেলার হামলাটি অন্যতম।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দিনের বেলায় প্রতিরক্ষা খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই প্রদর্শনীতে হামলা চালানো হয়। এতে প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর স্লোভিয়ানস্কে রাশিয়ার গ্লাইড বোমা হামলায় পাঁচজন এবং উত্তরাঞ্চলীয় সুমি শহরে আরও দুজন নিহত হয়েছেন বলে সামরিক কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়া বড় ধরনের আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
কিয়েভের কাছে ড্রোন প্রদর্শনীতে হামলার পর ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সের্হি বেসক্রেস্টনভ (যিনি ফ্ল্যাশ নামে পরিচিত) এবং ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নকর্মী লিউবা শিপোভিচের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা দুজনেই অক্ষত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বেসক্রেস্টনভ জানান, নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানান, রুশ বাহিনী তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালায়, যার মধ্যে কেবল একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছিল। রাশিয়া এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেনের যেসব ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, সেগুলো যেখানে প্রদর্শন করা হচ্ছিল, সেখানে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এ ধরনের কোনো প্রদর্শনীতে হামলা হলো। তবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এমন একটি পাবলিক বা উন্মুক্ত মেলার আয়োজন এবং তার ব্যাপক প্রচার করা নিয়ে ইউক্রেনে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেল জানিয়েছেন, কার সিদ্ধান্তে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছিল এবং সেখানে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার যুদ্ধক্ষেত্রের সীমানা থেকে প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার কিরভ শহরে ইউক্রেনীয় হামলায় ৬ জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হন। এছাড়া রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান 'ওয়াইল্ডবেরিজ'-এর গুদামেও হামলা চালায় ইউক্রেন। জেলেনস্কি জানান, কিরভে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। ওয়াইল্ডবেরিজের মতো লজিস্টিক হাব বা সরবরাহ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে রুশ সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ ব্যাহত করতে চায় কিয়েভ।
অন্যদিকে, শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠক করার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লরা লুমার, যিনি শুক্রবার কিয়েভে জেলেনস্কির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, তিনি জানিয়েছেন যে জেলেনস্কি একই দিনে প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে, রোমানিয়ার আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী একটি রুশ ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে দেশটির একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর দান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।



























