অধিকৃত পশ্চিম তীরে পৃথক দুটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। তুলকারেমের দক্ষিণে কুর গ্রাম এবং নাবলুসের দক্ষিণে কুসরা শহরে এই হামলা দুটি চালানো হয়। ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা (WAFA) জানিয়েছে, রবিবার কুর গ্রামে হামলা চালিয়ে একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয় ইসরায়েলিরা। এর ফলে মসজিদের ভেতরের অংশ এবং ভবনের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
কুর গ্রামে হামলার সময় হামলাকারীরা মসজিদের দেওয়ালে বর্ণবাদী গ্রাফিতিও এঁকে দেয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আগুন নেভাতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কুসরা শহরে নির্মাণাধীন 'আল-রহমা' মসজিদে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কুসরার মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি জানান, এই অগ্নিসংযোগের ফলে নির্মাণাধীন মসজিদের কাঠ ও নির্মাণ সামগ্রী পুড়ে গেছে।
ফিলিস্তিনের ওয়াকফ ও ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয় কুর গ্রামের মসজিদে হামলার এই ঘটনাকে একটি ‘জঘন্য অপরাধ’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীরা অন্তত ৪৫টি মসজিদে হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া নাবলুসের পূর্বে বেইত ফুরিক নামক স্থানে আরেকটি হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে ওয়াফা জানিয়েছে, সেখানে আল-দুব্বাত এলাকায় হামলা চালিয়ে এক ফিলিস্তিনির বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বসতিস্থাপনকারীরা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই বাড়িটির আংশিক ক্ষতি হয়। এই হামলাকারীরাও দেওয়ালে আরবদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বর্ণবাদী গ্রাফিতি এঁকে রেখে যায়।
সম্প্রতি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সহিংসতা চরম আকার ধারণ করেছে। গত শুক্রবার নাবলুসের কাছে তেল্ল শহরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সহায়তায় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায় বসতিস্থাপনকারীরা। সেই সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গোলাগুলিতে দুই ইসরায়েলিও নিহত হন। এই ঘটনার পর নাবলুস ও এর আশেপাশের এলাকায় কঠোর অবরোধ আরোপ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে গণ-গ্রেপ্তার অভিযান চালানোর পাশাপাশি বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিনি সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১,১৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন হাজার হাজার এবং প্রায় ২৪,০০০ ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ফিলিস্তিনি কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের গত ৬ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ফিলিস্তিনি ও তাদের সম্পত্তির ওপর ৩,৪৮৮টি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। এসব হামলায় ১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং বসতিগুলোতে অগ্নিসংযোগ, জমি দখল ও অবৈধ বসতি স্থাপন করার মতো ঘটনা ঘটেছে। ফিলিস্তিনিদের আশঙ্কা, এই ক্রমবর্ধমান হামলাগুলো আসলে পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার একটি ষড়যন্ত্র, যা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে নষ্ট করছে।
































