ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আতঙ্কিত না হয়ে বরং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা জানিয়েছেন, মশাবাহিত এই রোগটির নির্দিষ্ট কোনো ভ্যাকসিন বা কার্যকর ওষুধ নেই, তাই মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের লড়াই কেবল হাসপাতাল কেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়; এটি শুরু করতে হবে বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মস্থল এবং স্থানীয় পর্যায় থেকে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, রোগীকে দ্রুত শনাক্ত করা, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষা প্রদান এবং দরিদ্র রোগীদের সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টিকে কেবল প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে না দেখে, এর পরবর্তী সময়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে পারলে ডেঙ্গুর বার্ষিক দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
এডিস মশা সাধারণত বাড়ির ভেতর, ছাদ, ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের নিচের জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে। তাই বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় পাত্রসমূহ ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো পাত্রে পাঁচদিনের বেশি যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান জানান, ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় শরীর মুছে দেওয়া, মাথায় পানি দেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ছয় থেকে আট ঘণ্টা পরপর প্যারাসিটামল সেবন করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু জ্বরের মূল চিকিৎসা হলো শরীরে পর্যাপ্ত তরল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। পানি ছাড়াও ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, ফলের রস ও স্যুপ পান করা অত্যন্ত জরুরি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৭ হাজার ৯ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় ও জলাশয় পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব।






























