মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা (এইচএইচএস) মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভ্রমণের সময় তিনি তার বিমানে ‘বাক্সকে বাক্স’ ম্যাকডোনাল্ডসের খাবার থাকতে দেখেছেন। গত ১২ আগস্ট, বুধবার প্রচারিত ‘নেট পজিটিভ’ পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। নিজের গাঁজন করা (ফারমেন্টেড) খাবার ও ঘাস খাওয়া পশুর মাংসের ডায়েটের জন্য পরিচিত কেনেডি জানান, ট্রাম্পের বিমানে উঠলেই কেবল ম্যাকডোনাল্ডসের বাক্স চোখে পড়ে।
পডকাস্টের অন্যতম সঞ্চালক জন ক্রিস্ট যখন জানতে চান তিনি কখনো প্রেসিডেন্টের এই খাদ্যাভ্যাস সংশোধনের চেষ্টা করেছেন কি না, তখন কেনেডি বলেন, তিনি কাউকে বকাঝকা করার মতো মানুষ নন। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প বেশিরভাগ সময় বেশ ভালো খাবারই খান। কিন্তু ভ্রমণের সময় তিনি জাতীয় চেইনের খাবার খেতে পছন্দ করেন, কারণ তার মধ্যে ফুড পয়জনিং বা খাবারে বিষক্রিয়ার ভয় কাজ করে।
কেনেডি জানান, ট্রাম্পের মার-এ-লাগো বাসভবন এবং হোয়াইট হাউসের খাবার তার নিজের পছন্দের স্বাস্থ্যকর মানদণ্ডের বেশ কাছাকাছি। মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সেখানকার খাবার সবচেয়ে চমৎকার; সব তাজা শাকসবজি ও ফলমূল পরিবেশন করা হয়, যার বেশিরভাগই স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা। তাই ট্রাম্প অধিকাংশ সময়ই ভালো খাবার খাচ্ছেন বলে তিনি মনে করেন। এর আগে আরেকটি পডকাস্টে ট্রাম্পের সোডা ও ফাস্টফুড প্রীতির কথা উল্লেখ করে কেনেডি মন্তব্য করেছিলেন যে, ট্রাম্প কীভাবে এখনও বেঁচে আছেন তা তিনি জানেন না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে কেনেডি নিজের কঠোর ডায়েটের জন্য পরিচিত, যার মাধ্যমে তিনি ৩০ দিনে ২০ পাউন্ড ওজন কমিয়েছেন বলে দাবি করেন। এছাড়া তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্য নীতির অন্যতম মূল অংশ ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ (মাহা) আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০২৫ সালে অভিষেকের পরপরই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন কমিশন’ গঠন করেন, যার লক্ষ্য প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী রোগ কমানোসহ আমেরিকানদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি করা।
এই আন্দোলনটি মূলত কৃত্রিম রং ব্যবহার করা খাবার বা অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের বিরুদ্ধে কাজ করে। চিকিৎসকেরা মাহার তাজা শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার পরামর্শকে ইতিবাচক বললেও, ভ্যাকসিন বা টিকার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং অটিজমের কারণ সংক্রান্ত কিছু বিতর্কিত উদ্যোগের কারণে অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও অ্যাসোসিয়েশন এর সমালোচনাও করেছেন।




























