শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেন যে, এখন থেকে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরকালীন পাওনা পেতে আর কোনো দপ্তরে ছোটাছুটি করতে হবে না। তিনি স্পষ্ট জানান, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় শিক্ষকদের এই ভোগান্তি চিরতরে বন্ধ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য বা হয়রানি ছাড়াই শিক্ষকদের প্রাপ্য অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট সকালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি জানান, দীর্ঘ চার বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ৭০ হাজার ১১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা তাদের জমানো ফান্ডের একটি অংশ হাতে পেয়েছেন।
‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ থেকে এই অর্থ বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার কিছুটা লাঘব হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যারা জাতি গড়ার কারিগর, তাদের নিজেদের পাওনা পেতে ঘুষ দেওয়া বা দপ্তরে ঘুরে হয়রানির শিকার হওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। এই দীনতা থেকে জাতিকে মুক্ত করতেই বর্তমান সরকার অনলাইনভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু করেছে।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার ব্যাংক ও বীমাসহ প্রতিটি খাতের মতো শিক্ষকদের এই দুটি তহবিল থেকেও ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছিল। জাল ইনডেক্স তৈরি, দুর্বল ব্যাংকে অর্থ সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংস করার ফলে তহবিল দুটি দেউলিয়া হয়ে পড়েছিল। এর ফলে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পর্যাপ্ত অর্থের সংকট থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের দুরবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় এই পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে।
মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ২০০২ সালে ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ তাঁর হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সময় ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে শুরু করে পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার তহবিল গঠন করে তিনি এর মজবুত ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিলেন। এছাড়া নারী শিক্ষা ও উপবৃত্তি প্রবর্তনের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে এক অনন্য মডেল স্থাপন করেছিলেন।
শিক্ষকদের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা এমন একটি মহৎ পেশা যা অন্য সব পেশার জন্ম দেয়। তিনি শিক্ষকদের আহ্বান জানান, অবসরে গেলেও সমাজ ও রাষ্ট্রের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষায় তারা যেন আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে যান। শিক্ষক হিসেবে তাদের দায়িত্ব কেবল শ্রেণিকক্ষেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সমাজ গঠনে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা তুলতে হয়রানির তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক সমাজ, যারা নীতি-নৈতিকতা আর আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো কোটি শিক্ষার্থীকে বড় করে তোলেন, তাদেরকেই যদি ঘুষ দিয়ে টাকা তুলতে হয় বা অফিসে ঘুরে ভোগ
শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা তুলতে হয়রানির তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক সমাজ, যারা নীতি-নৈতিকতা আর আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো কোটি শিক্ষার্থীকে বড় করে তোলেন, তাদেরকেই যদি ঘুষ দিয়ে টাকা তুলতে হয় বা অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়; বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা ও হীনতাই প্রকাশ পায়।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সূত্র: যুগান্তর


























