৯ মাসের দীর্ঘ মোতায়েন শেষে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। জাহাজটিতে থাকা নৌসেনা ও মেরিনরা এখন নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট, ২০২৬) সিবিএস নিউজকে নিশ্চিত করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হতে জাপান-ভিত্তিক আরেকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ ইতিমধ্যেই সেখানে পৌঁছেছে। এদিকে, দীর্ঘ এই মোতায়েনকালে জাহাজটিতে থাকা ক্রুদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং খাদ্য সংকটের মতো বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।
গত বছরের ২১ নভেম্বর প্রায় ৫,০০০ ক্রু সদস্য নিয়ে সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাদের অভিযানের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় এবং কাজের চাপও বহুগুণ বেড়ে যায়। এই রণতরীটি থেকে হাজার হাজার বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সান ডিয়েগোতে ফিরে যেতে জাহাজটির প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
ক্রুদের পরিবারের সদস্যদের এমন উদ্বেগ ‘মিলিটারি টাইমস’ এবং ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এ প্রকাশিত হওয়ার পর তা ক্যাপিটল হিলে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই উদ্বেগগুলোকে নাকচ করার চেষ্টা করেছেন। ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে জাহাজটি খুব বেশি দিন মোতায়েন ছিল না। অন্যদিকে, নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও গণমাধ্যমের এসব প্রতিবেদনকে ‘অসৎ’ বা ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন।
অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পরিদর্শন করেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। তিনি বলেন, “সমুদ্রে মোতায়েন থাকাটা অনন্যভাবে চ্যালেঞ্জিং ও কঠিন এবং আমি সহ আমাদের প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া জানাই।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাস করি যে মানসিক স্বাস্থ্য হলো ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের আরেকটি দিক এবং শারীরিক ও আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যের মতো এটিতেও আমাদের মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।” তবে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো সমস্যার কথা নিশ্চিত করেননি।
মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা জাহাজে আত্মহত্যার চেষ্টা বা আত্মহত্যার চিন্তার কোনো বৃদ্ধির প্রমাণ পায়নি। তবে গত ৩ আগস্ট এক নৌসেনার জাহাজ থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে, যাকে পরবর্তীতে উদ্ধার করা হয়েছিল।
জাহাজে থাকা নৌসেনা জ্যাকসন কেলির বাবা জেফারসন কেলি তার ছেলের ফিরে আসার অপেক্ষায় ব্যাকুল হয়ে আছেন। এটিই ছিল জ্যাকসনের প্রথম মোতায়েন। গত সপ্তাহে সিবিএস নিউজকে জেফারসন বলেন, “একজন অভিভাবক হিসেবে আমার মনে কেবল একটাই অনুভূতি কাজ করছে—সন্তানের পাশে থাকা, তার জন্য সেখানে উপস্থিত থাকা। আজ রাতেই যদি কোনো বিমান বা হেলিকপ্টারে চড়ে লিংকনে চলে যাওয়া যেত এবং তার বিনিময়ে ওকে ওর মা, ভাইবোন ও পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা যেত, তবে আমি তা-ই করতাম।”





























