সারাদেশে চলমান তীব্র লোডশেডিং পরিস্থিতি এবং শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফেরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি তেলের অভাবে দেশের অর্ধেকের বেশি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এতদিন আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। মূলত বকেয়া পাওনা জমে থাকায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সংগঠন ‘বিপ্পা’র সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানিয়েছেন, প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে আমদানিকৃত তেল ব্যবহার করে কেন্দ্রগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে শুরু করেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে শিল্প খাতে সরবরাহ বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছে সরকার। জ্বালানি ও অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে বাস্তবসম্মত মনে করছেন, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির উচ্চমূল্য ও সরবরাহের অনিশ্চয়তার তুলনায় ফার্নেস অয়েল ব্যবহার এখন সাশ্রয়ী। শিল্প খাত সচল রাখা দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি জটিলতা ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে এতদিন গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। তবে সম্প্রতি টার্মিনালটি সচল হওয়ায় এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং বর্তমানে তা দৈনিক ২,৩৮১ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। এই বর্ধিত গ্যাস শিল্প খাতে ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বজায় রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ


























