ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে চারবারের চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচকে। এই পরাজয়ের মাধ্যমে ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পল গোল্ডস্টেইনের কাছে হারের পর থেকে তার টানা ৭৮টি গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ড জয়ের অবিশ্বাস্য ধারার অবসান ঘটল।
ম্যাচ শেষে জোকোভিচ তার খারাপ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, কোর্টে তার অনুভূতি খুবই ভয়াবহ ছিল। তিনি জানান, পুরো ম্যাচ জুড়ে তিনি বারবার বমি করছিলেন এবং শরীরের পেশিতে প্রচণ্ড টান অনুভব করছিলেন। জোকোভিচ বলেন, এই সমস্যা তিনি সারা বছর ধরেই বহন করছেন এবং শেষ পর্যন্ত তার শরীর যেন ভেঙে পড়ছিল। পিঠ ও কাঁধের ব্যথার কারণে তিনি ম্যাচটি শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ম্যাচের একপর্যায়ে চতুর্থ সেটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে জোকোভিচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু তার প্রতিপক্ষ নাভোন দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের পাঁচটি গেম জিতে নেন এবং ম্যাচটি পঞ্চম সেটে নিয়ে যান। পঞ্চম সেটের আগে জোকোভিচ মেডিকেল টাইমআউট নিয়ে পিঠে ম্যাসাজ ও ওষুধ গ্রহণ করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ সেটে নাভোন ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান এবং জোকোভিচ আর লড়াইয়ে ফিরতে পারেননি।
এর আগে প্রথম সেটে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও জোকোভিচকে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। প্রতিটি র্যালির পরেই তাকে হাঁপাতে দেখা যায় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি প্রথম সেটটি হাতছাড়া করেন। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেটে তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি ম্যাচ থেকে অবসর নিতে চাননি।
একই দিনে ইউএস ওপেনে জয় পেয়েছেন বিশ্বের তিন নম্বর খেলোয়াড় জেসিকা পেগুলা। তিনি এলেনা-গ্যাব্রিয়েলা রুসকে ৬-৩, ৬-২ সেটে হারিয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া সপ্তম বাছাই দানিল মেদভেদেভ ফ্রান্সের হুগো গ্যাস্টনকে ৬-৪, ৬-২, ৬-৪ সেটে হারিয়ে সহজ জয় পেয়েছেন। তবে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর স্প্যানিশ খেলোয়াড় জউমে মুনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ম্যারাথন ম্যাচে ফ্রান্সের তেরেন্স আতমানেকে ৬-৭ (৫/৭), ৩-৬, ৬-১, ৭-৬ (৭/৪), ৭-৫ সেটে হারিয়েছেন।





























