গত ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তান অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে তাদের স্বাধীনতার ৩৫ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। এই বিশেষ দিনটিতে বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) একটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনের আগে ২০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা সমবেত হন। একই দিনে সন্ধ্যায় ষষ্ঠ বিশ্ব নোম্যাড গেমসের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আখ্যান নতুন করে উপস্থাপিত হয়।
যাযাবর বিশ্বের অলিম্পিক হিসেবে পরিচিত এই গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিশকেকের নবনির্মিত ৫১ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার বিশকেক অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হয়, যা বর্তমানে মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম স্টেডিয়াম। অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মতো বিশ্বনেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় সাত ঘণ্টা স্থায়ী এই দীর্ঘ আয়োজনে কিরগিজ সংগীতের বড় বড় তারকাদের পরিবেশনা ছিল। প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ ব্যক্তিগতভাবে ১৮ জন রাষ্ট্রপ্রধানকে স্বাগত জানান, যা স্টেডিয়ামের বিশাল পর্দায় প্রদর্শিত হয়।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট জাপারভ একটি এলিভেটর প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মঞ্চে উঠে ভাষণ দেন। এর আগে কিরগিজ জাতীয় সংগীত এবং ১০৪টি অংশগ্রহণকারী দেশের নাম ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এরপর প্রায় ৩ হাজার পারফর্মার এবং ৩০০ অশ্বারোহীর অংশগ্রহণে কিরগিজ ও যাযাবর ঐতিহ্যের এক নাটকীয় যাত্রা প্রদর্শিত হয়। এই পরিবেশনায় ইসিক-কুল হ্রদের পানি সংগ্রহের প্রতীকী দৃশ্য থেকে শুরু করে মঙ্গোল আক্রমণের দৃশ্যও ছিল, যা পরে ঐতিহ্যবাহী কোক বোরু খেলার মাধ্যমে শেষ হয়। সবশেষে আতশবাজি এবং নিকোল শেরজিঞ্জারের সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
গবেষক ড. আরজু শেরানোভার মতে, এই গেমস কিরগিজস্তানের ইমেজ উন্নয়নের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ জাতীয় পরিচয় পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছে। একসময় যাযাবর সংস্কৃতিকে পশ্চাৎপদ মনে করা হলেও, এখন তা ফ্যাশন ও জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এটি সরকারিভাবে প্রচলিত 'কিরগিজ জারানি' বা নাগরিক পরিচয় ধারণার চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. শাইরবেক জুরায়েভ জানান, বর্তমান সরকারের আমলে কিরগিজ ভাষার ওপর জোর দেওয়ার ফলে এই সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জাপারভ তার ভাষণে কিরগিজস্তানের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি চীন-কিরগিজস্তান-উজবেকিস্তান (সিকেইউ) রেলওয়ে এবং আলা-তু স্কি রিসোর্টের মতো বড় প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। গেমসকে কেন্দ্র করে বিশকেক অ্যারেনা নির্মাণ, চোলপন-আতা হিপোড্রোম সংস্কার এবং মানাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পুনর্নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে জাপারভ এই বড় ইভেন্টগুলোকে তার প্রথম মেয়াদের সাফল্যের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

























