যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনার সাথে চলমান বিরোধে ব্রিটেনের পক্ষে তার দেশ সমর্থন দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল জিবি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার উপকূল থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত, যা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধ চলছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ফকল্যান্ড নিয়ে নতুন কোনো সংঘাত তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র কি ব্রিটেনের পাশে দাঁড়াবে? এর সরাসরি উত্তর এড়িয়ে ট্রাম্প ১৯৮২ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া ১০ সপ্তাহের সেই যুদ্ধের কথা স্মরণ করেন, যখন আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তা দ্বীপটি দখল করেছিল এবং তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার নৌবাহিনী পাঠিয়ে তা পুনরুদ্ধার করেছিলেন। সেই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সদস্য এবং তিনজন দ্বীপবাসী নিহত হয়েছিলেন। ট্রাম্প বলেন, 'এটি অনেক আগের ঘটনা। আমি খুব কাছ থেকে তা পর্যবেক্ষণ করেছি এবং আপনারা খুব শক্তভাবে দ্বীপটি পুনরুদ্ধার করেছিলেন।'
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন তার আদর্শিক মিত্র আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দ্বীপটির ওপর আর্জেন্টিনার দাবি নিয়ে একটি জাতীয় ভাষণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মিলেই বুধবার বলেছেন, আর্জেন্টিনার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা 'সর্বশক্তি দিয়ে' লড়াই করবেন। তিনি দ্বীপটিকে আর্জেন্টিনার নাম অনুযায়ী 'মালভিনা' বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প এই আলোচনার মাঝে ইরানবিরোধী যুদ্ধে ব্রিটেনের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ইরানবিরোধী অভিযানে ব্রিটেন পর্যাপ্ত সহায়তা করেনি। ট্রাম্প বলেন, 'আপনাদের দেশ ভালো করছে না। আমাকে সাহায্য করার জন্য আপনাদের দেশ সেখানে ছিল না।' তিনি দাবি করেন, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাকে জানিয়েছিলেন যে যুদ্ধে পাঠানোর মতো জাহাজ তাদের নেই।
ফকল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ছিল দ্বীপটির সার্বভৌমত্বের দাবির বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকা এবং ব্রিটেনের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি দেওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান থেকে সরে আসা একটি বড় কূটনৈতিক ধাক্কা হতে পারে। এর আগে সোমবারও ট্রাম্প বলেছিলেন যে তিনি বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যে আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র টম ওয়েলস জানিয়েছেন, ব্রিটেনের অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী এবং অটল। তিনি ২০১৩ সালের গণভোটের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে প্রায় ৪,০০০ দ্বীপবাসী ব্রিটিশ শাসনাধীন থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। আর্জেন্টিনা দাবি করে, ১৮৩৩ সাল থেকে ব্রিটেন অবৈধভাবে দ্বীপটি দখল করে রেখেছে, যা তাদের জাতীয় আবেগের একটি বড় অংশ।






























