জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বিশ্ব মানচিত্রে আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন ফুটিয়ে তুলতে একটি নতুন মানচিত্রের নকশা অনুমোদন করেছে। গত শুক্রবার গৃহীত এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রচলিত 'মার্কেটর' মানচিত্রের পরিবর্তে 'ইকুয়াল আর্থ' প্রজেকশন ব্যবহারের জন্য বিশ্বজুড়ে সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করা হয়েছে। আফ্রিকান দেশগুলো এবং বিভিন্ন অধিকার গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের প্রচারণার পর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত এলো।
১৬ শতক থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসা ঐতিহ্যবাহী মার্কেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ড ও আফ্রিকাকে প্রায় একই আকারের দেখায়। তবে নতুন 'ইকুয়াল আর্থ' প্রজেকশনে মহাদেশগুলোর প্রকৃত অনুপাত ফুটে উঠেছে, যেখানে আফ্রিকা আসলে গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড়। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে মার্কেটর মানচিত্র নিষিদ্ধ বা বাধ্যতামূলক কোনো পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না, বরং কেবল নতুন নির্ভুল মানচিত্র ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ভোটের আগে টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডুসে মানচিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "মানচিত্র বিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে রূপ দেয়। এগুলো শিক্ষাকে পরিচালিত করে, কল্পনাকে সমৃদ্ধ করে এবং আমাদের যৌথ দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে।" এই প্রচারণার অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা 'আফ্রিকা নো ফিল্টার' নামক সংস্থাটি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, "আমরা স্কুল, পাঠ্যপুস্তক, নিউজরুম, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কোটি কোটি মানুষের দৈনিক ব্যবহৃত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে সঠিক মানচিত্র দেখতে চাই।"
বিভিন্ন দেশ এই নতুন মানচিত্র গ্রহণের বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, "মানচিত্র পরিবর্তন করলেই পৃথিবী বদলে যায় না। তবে একটি বিকৃত উপস্থাপনকে সংশোধন করা সত্য প্রকাশেরই একটি পদক্ষেপ।"
ঐতিহ্যবাহী মার্কেটর মানচিত্রটি মূলত ইউরোপীয় নাবিকদের সমুদ্রযাত্রায় সহায়তার জন্য ফ্লেমিশ মানচিত্রকর জেরার্ডাস মার্কেটর তৈরি করেছিলেন। তবে সমালোচকদের মতে, এই মানচিত্রে মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি থাকা উত্তর আমেরিকা ও গ্রিনল্যান্ডের মতো এলাকাগুলোকে বড় করে এবং আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাকে ছোট করে দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে তৈরি হওয়া 'ইকুয়াল আর্থ' প্রজেকশনটি পৃথিবীর বক্রতা অনুসরণ করে মহাদেশগুলোর আসল অনুপাত প্রদর্শন করে। সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির ভূগোলের অধ্যাপক মার্ক মনমোনিয়ারের মতে, সমুদ্রপথের দিকনির্দেশনা ছাড়া অন্য কোনো কাজে ঐতিহ্যবাহী মার্কেটর মানচিত্রটি ব্যবহারের কোনো যৌক্তিকতা নেই।






























