তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক তাদের নির্মাণাধীন ‘টুইন টাওয়ার’ প্রকল্পের একটি ভবন বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়ার বিশেষ অনুমতি পেয়েছে। সাধারণত ব্যাংক কোম্পানি আইনে ভবন ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ না থাকলেও, বিশেষ ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক এ অনুমোদন দিয়েছে। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, এই ভবন থেকে আয় করা অর্থ প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান আর্থিক সংকট কাটাতে কিছুটা সহায়ক হবে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড়ে পান্থপথের সার্ক ফোয়ারার পশ্চিম পাশে অবস্থিত ৬৪ কাঠা জমির ওপর এই টুইন টাওয়ার নির্মিত হয়েছে। প্রকল্পটিতে দুটি ১২তলা ভবন রয়েছে, যার মোট ফ্লোর স্পেস ৩ লাখ ৫৫ হাজার বর্গফুট। বর্তমানে টাওয়ার-১-এর অবকাঠামো ব্যবহার উপযোগী করার কাজ চলছে, যেখানে শীঘ্রই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্য দিকে টাওয়ার-২-এর কাঠামো সম্পন্ন হয়েছে, যা এখন ভাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর আগে ব্যাংকটি একটি ভবনে প্রধান কার্যালয় এবং অন্যটিতে আবাসিক হোটেল করার প্রস্তাব দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই হোটেলের প্রস্তাবটি বাতিল করে দেয়।
ন্যাশনাল ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি বেশ নাজুক। বিতরণ করা ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশই এখন খেলাপি, যার পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকটির নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা এবং ২০২৪ সালে ব্যাংকটি ১ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ব্যাংকটি প্রায়ই ধার চায়, তাই আইনের ধারা শিথিল করে ভবন ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভবনটি কেন গলার কাঁটা? ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদেও পরিবর্তন আসে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে টুইন টাওয়ারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালে পাইলিংয়ের সময় একটি দুর্ঘটনা ঘটলে কাজ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। এছাড়া, দীর্ঘ সময় ধরে সিকদার গ্রুপের মালিকানাধীন ভবনে প্রধান কার্যালয় পরিচালনার জন্য ব্যাংকটি প্রতি মাসে আড়াই কোটি টাকা ভাড়া গুনছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন পর্ষদ নিজস্ব ভবনে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। ভবন ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে আইনগত বাধা দূর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৯ জুন সরকারকে একটি সুপারিশপত্র পাঠায় এবং সরকারের সম্মতির পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফোন করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।
তাই বিশেষ ক্ষমতায় অনুমতি প্রদান।ব্যাংকটির ৫৬.৪৪% ঋণ খেলাপি, যা পরিমাণে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা।.আর্থিক সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক তাদের নির্মাণাধীন ‘টুইন টাওয়ারের’ একটি ভবন বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়ার বিশেষ সুযোগ পেয়েছে।
অন্যদিকে টাওয়ার-২-এর কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে।ভবন দুটির নির্মাণের ব্যয় ইতিমধ্যে ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।






























