ব্রাজিলের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির সরকার যুক্তরাষ্ট্রের দুই পদস্থ কর্মকর্তার ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের সরকার মনে করছে ওই কর্মকর্তারা দেশটির আগামী অক্টোবরের নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরি করতে চেয়েছিলেন।
ব্রাজিলের পররাষ্ট্র dপ্তরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সহকারী সেক্রেটারি রাইলি এম বার্নস এবং ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট স্যামুয়েল স্যামসন গত ২০ জুলাই ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন। গত শুক্রবার তাদের সেই আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট কী কারণ রয়েছে, তা প্রকাশ করেননি মুখপাত্র।
আসন্ন নির্বাচনে ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো, যার পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। গত মে মাসের শেষের দিকে সিনেটর বলসোনারো এবং তার ভাই এদুয়ার্দো ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেন। এর পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় মাদক চোরাচালানকারী দল ‘ফার্স্ট কমান্ড ক্যাপিটাল’ এবং ‘রেড কমান্ড’কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। তবে প্রেসিডেন্ট লুলা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছেন।
এছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের হাজার হাজার রপ্তানি পণ্যের ওপর ৩৭.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বৃদ্ধি করেছে, যা গত শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে। মার্কিন সরকারের দাবি, লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে অন্যায্য বাণিজ্যিক চর্চা এবং জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে ব্যর্থতার ঘটনা ঘটছে। তবে লুলার প্রশাসন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে সিনেটর বলসোনারোর পক্ষে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার মার্কিন প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বার্নস এবং স্যামসন আগামী ২৭ থেকে ৩০ জুলাই ব্রাসিলিয়া সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন। সেখানে সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা এবং অন্যদের সাথে "নির্বাচনের সততা", ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে তাদের আলোচনার কথা ছিল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একে একটি ‘রুটিন সফর’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা বলেছে, "একটি গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার কোনো ‘ষড়যন্ত্রের’ ইঙ্গিত দেওয়া সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মিথ্যা।"
ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রমাণ ছাড়াই দেশের ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিলেন। বর্তমানে তিনি একটি অভ্যুত্থান চেষ্টার দায়ে নিজ দেশে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে, গত ২৫ বছর ধরে ব্যবহৃত এই ভোটিং মেশিনগুলো জালিয়াতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তার ছেলে সিনেটর বলসোনারো সম্প্রতি এসব দাবির পুনরাবৃত্তি করলেও, গত শনিবার সাও পাওলোতে লিবারেল পার্টি তাকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নিশ্চিত করার সময় তিনি এ ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিলেন।




























