পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচের একটি নাটকীয় দিনে ১৪টি উইকেটের পতন ঘটেছে। একদিকে জাস্টিন গ্রিভসের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তান ধসে পড়ে, অন্যদিকে দিনের শেষ ভাগে বল হাতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৩১১ রানের জবাবে পাকিস্তান দ্বিতীয় দিনে ১১২ রানে পিছিয়ে থেকে খেলা শুরু করে। অধিনায়কত্ব হারানোর পরপরই শান মাসুদ খেলেন এক দুর্দান্ত ইনিংস। গ্লাভসে আঘাত পাওয়ার পরেও তিনি দমে যাননি এবং ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১০৯ রান করে তিনি সাজঘরে ফেরেন। তার আগে সালমান আঘাকে কেমার রোচের বলে এলবিডব্লিউ দেওয়া হলেও রিভিউ নিয়ে তিনি বেঁচে যান। তবে শেষ পর্যন্ত শামার জোসেফের বলে বোল্ড হন তিনি।
এরপরই শুরু হয় জাস্টিন গ্রিভসের তাণ্ডব। টানা চারটি উইকেট মেইডেন ওভার নেন তিনি। শান মাসুদকে বোল্ড করার পর আমির জামাল ও আলী ওসমানকে (শূন্য) আউট করেন গ্রিভস। মোহাম্মদ রিজওয়ান উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে মাত্র ১৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। মধ্যাহ্নভোজের পর প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ আব্বাসকে আউট করে নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করেন গ্রিভস। খুররম শাহজাদ ১৯ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও কেমার রোচের বলে আউট হলে পাকিস্তান ২৮২ রানে অলআউট হয়। গ্রিভস মাত্র ২৭ রান দিয়ে ৫টি উইকেট নেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজও স্বস্তিতে ছিল না। শাই হোপকে বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান মোহাম্মদ আলী। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল। গ্রিভসকে সাথে নিয়ে তিনি ৪০ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু আমির জামালের একটি শর্ট বলে মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ৩৫ রান করে আউট হন চন্দরপল। এরপর আব্বাসের বলে বাবর আজমের এক দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচে পরিণত হন গ্রিভস। রোস্টন চেজও দ্রুত বিদায় নিলে ৯৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে স্বাগতিকরা।
তবে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও দলের হাল ধরেন শামার জোসেফ। আমির জামালের দুই ওভারে তিনটি ছক্কা মেরে পাকিস্তানি বোলারদের হতাশ করেন তিনি। জামাল তাকে আউট করার সুযোগ তৈরি করলেও রিজওয়ান কঠিন ক্যাচটি লুফে নিতে পারেননি। দিনশেষে জোসেফ (২২*) ও কেমার রোচের অবিচ্ছিন্ন ৩৩ রানের জুটির কল্যাণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৬/৭। বর্তমানে স্বাগতিকদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৫ রানে।




























