অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরের মাহমুদ দারবিশ মিউজিয়ামে শুরু হয়েছে তুর্কি শিল্পী আহমেত ইউসুফ আইগেচের এক ব্যতিক্রমী চিত্র প্রদর্শনী। ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি মাহমুদ দারবিশের কবিতা এবং ফিলিস্তিনিদের জীবনসংগ্রামের মেলবন্ধনে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে, ইসরায়েল ভিসা না দেওয়ায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি স্বয়ং শিল্পী আইগেচ।
'পোস্টারস টু দ্য অলিভ ট্রি ইন এক্সাইল' (প্রবাসে জলপাই গাছের প্রতি পোস্টার) শিরোনামের এই প্রদর্শনীতে রঙিন পেন্সিল ও সফট প্যাস্টেলে আঁকা ২০টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। মাহমুদ দারবিশের বিখ্যাত উক্তি 'লেটারস টু দ্য অলিভ ট্রি ইন এক্সাইল' থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রদর্শনীর এই নামকরণ করা হয়েছে। সামেদ কারাগোজের কিউরেশনে এবং তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার (টিকা – TIKA) ফিলিস্তিন শাখার সহায়তায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে ফিলিস্তিনিদের দুঃখ-কষ্ট, প্রতিরোধ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি শিল্পকর্মের সাথে রয়েছে দারবিশের কবিতার চমৎকার সব পঙ্ক্তি।
প্রদর্শনীটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফিলিস্তিনের সংস্কৃতি মন্ত্রী ইমাদ হামদান, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে নিযুক্ত তুরস্কের ডেপুটি কনসাল জেনারেল আলেনা কারাসাচ, টিকার ফিলিস্তিন কার্যালয়ের প্রতিনিধিদল, রামাল্লার ইউনুস এমরে ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা এবং ফিলিস্তিনি শিল্পকলা অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ফিলিস্তিনের সংস্কৃতি মন্ত্রী ইমাদ হামদান আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, একজন তুর্কি শিল্পীর কাজের মাধ্যমে দারবিশের কবিতা যেভাবে জীবন্ত হয়ে উঠেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই পোস্টারগুলো ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ, বন্দিদশা, শাহাদাত ও বিশ্বাসের বার্তা বহন করে এবং বিশ্বমঞ্চে ফিলিস্তিনের দাবি তুলে ধরে। শিল্পীর ভিসা না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের পাশে কোনো 'সাক্ষী' দেখতে চায় না, তবে শিল্পীর বার্তা তার কাজের মাধ্যমে ঠিকই ফিলিস্তিনে পৌঁছে গেছে।
প্রদর্শনীর কিউরেটর সামেদ কারাগোজ জানান, ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকের সমৃদ্ধ ফিলিস্তিনি পোস্টার ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই কাজগুলো করা হয়েছে, যা সে সময় ইউরোপের গ্রাফিক শিল্পীদেরও প্রভাবিত করেছিল। আইগেচ প্রায় এক বছর ধরে এই সংগ্রহটি তৈরি করেছেন। ২০টি চিত্রকর্মের মধ্যে ১৯টিতেই দারবিশের কবিতা, লেখা বা বক্তৃতার উদ্ধৃতি রয়েছে। মাহমুদ দারবিশ মিউজিয়ামে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পেরে তারা অত্যন্ত গর্বিত।
তবে রামাল্লায় প্রদর্শনীটি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে আয়োজকদের তীব্র লজিস্টিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। মূল চিত্রকর্মগুলো নষ্ট বা বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় প্রথমে সীমিত সংস্করণের প্রিন্ট পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো ইসরায়েলি কাস্টমসে আটকে দেওয়া হয় এবং ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় ফেরত পাঠানো হয়। পরবর্তীতে টিকার সহায়তায় স্থানীয়ভাবে এগুলো পুনরায় প্রিন্ট করে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করতে হয়। কারাগোজ আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীরে কঠোর চেকপোস্টের বিধিনিষেধ এবং জ্বালানি সংকটের কারণে ফিলিস্তিনিদের যাতায়াত চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। রামাল্লার মাহমুদ দারবিশ মিউজিয়ামে এই প্রদর্শনীটি আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।





























