ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো আগেভাগেই শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মেয়রের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় ২৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলার পরপরই ক্লিচকো টেলিগ্রামে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এএফপি’র সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তারা ঘটনাস্থলে একনাগাড়ে ১০টিরও বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে শহরের রাস্তায় থাকা গাড়িগুলোর অ্যালার্ম বেজে ওঠে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনজুড়ে অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে শিশুরাও ছিল। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মস্কো ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও জনপদে দীর্ঘপাল্লার হামলা বাড়িয়ে দেওয়ায় চলতি বছরের জুন মাসটি ২০২২ সালের এপ্রিলের পর ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
যুদ্ধের প্রায় সাড়ে চার বছর পার হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনও পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। মস্কোকে আলোচনার টেবিলে আনতে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি ও লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। জুন মাসে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্বীকার করেছিলেন যে, ইউক্রেনের এই হামলাগুলো রাশিয়ার জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে।
এদিকে, কিয়েভ একটি ই-কমার্স জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রুশ সেনাবাহিনীকে ড্রোন যন্ত্রাংশ সরবরাহে সহায়তা করার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে তারা প্যাট্রিয়ট মিসাইল ইন্টারসেপ্টর তৈরির লাইসেন্স নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা রাশিয়ার হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ন্যাটো সম্মেলনের সাইডলাইনে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে নিজস্ব প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেবে।





























