জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে ইউক্রেনীয় কার্গো বিমানের কাছাকাছি এলাকা থেকে একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে তীব্র নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্যাক্সনি রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের এক কর্মী ড্রোনটি দেখতে পাওয়ার পর একটি বিশেষ রোবটের সাহায্যে সেটির ডেটোনেটর নিষ্ক্রিয় করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ডিভাইসটি ধ্বংস করে।
এই ঘটনার পাশাপাশি আরেকটি রহস্যময় ঘটনা ঘটেছে। একই বিমানবন্দরের কাছে একটি কার্গো বিমানের সঙ্গে অজ্ঞাত আরেকটি বস্তুর সংঘর্ষ হয়। পরবর্তীতে বিমানটি হ্যানোভারে অবতরণ করলে সেটিতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি শনাক্ত করা হয়েছে। লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরটি জার্মানির সামরিক বাহিনী এবং ন্যাটো মিত্ররা সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য ব্যবহার করে থাকে।
পাশাপাশি এটি ইউক্রেনের 'অ্যান্টোনভ এয়ারলাইন্স'-এর একটি প্রধান ঘাঁটি, যা ইউক্রেনের বেশিরভাগ বিমান কার্গো পরিবহন করে। লজিস্টিকস জায়ান্ট ডিএইচএল-এরও একটি বাড়ে হাব এটি। পুলিশ বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে যে, পার্ক করে রাখা অ্যান্টোনভ বিমানের কাছেই বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোনটি পাওয়া যায়।
এই ঘটনার পর বিমানবন্দরের উত্তর রানওয়েতে রাত ১:৫৫ মিনিটে (জিএমটি মঙ্গলবার ২৩:৫৫) ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হলেও দক্ষিণ রানওয়েটি বন্ধ রাখা হয়েছে। স্যাক্সনির অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী আরমিন শুস্টার এই ঘটনাকে "অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা পরিস্থিতি" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জার্মান কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করলেও জার্মানিতে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলেক্সি মাকিইয়েভ ওয়েল্ট টিভিকে বলেন, "রাশিয়া ছাড়া আর কে হতে পারে?"
কিংস কলেজ লন্ডনের সিকিউরিটি স্টাডিজের অধ্যাপক পিটার আর নিউম্যান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই কেবল জার্মানিতে এমন সন্দেহজনক ড্রোনের ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, "গত রাত থেকে ড্রোন যুদ্ধ জার্মানিতে পৌঁছে গেছে। এটি আমাদের এমন এক দুর্বলতাকে প্রকাশ করেছে যা আমরা বছরের পর বছর ধরে জানতাম।" সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জার্মানির সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর, জ্বালানি টার্মিনাল, সমুদ্রবন্দর এবং লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল স্থাপনার ওপর দিয়ে অননুমোদিত ড্রোন ওড়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জার্মান বিমানবন্দরগুলো উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
পুলিশ সতর্ক করেছে যে, এসব ড্রোন রাশিয়ার এজেন্টদের দ্বারা পরিচালিত হতে পারে।
এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই মাসেও এই বিমানবন্দরে একটি পার্সেল ডিএইচএল কার্গো বিমানে তোলার আগেই আগুন ধরে যায়। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক পার্সেল অগ্নিকাণ্ডের অংশ ছিল সেটি, যা মস্কোর সাথে যুক্ত নাশকতার অংশ বলে সন্দেহ করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, সেই পার্সেলগুলোতে ম্যাসেজ পিলোর ভেতরে ইলেকট্রনিক টাইমার দিয়ে বিস্ফোরক লুকানো ছিল। তবে রাশিয়া এসব ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। এছাড়া গত বছর লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরের ফ্লাইট শিডিউল ও কার্গো চলাচলের তথ্য বেইজিংয়ের এক স্পাইয়ের কাছে পাচারের দায়ে এক চীনা নারীকে দণ্ডিত করা হয়েছিল।






























