ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ইতিহাসের কঠোরতম আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর তেহরান পাল্টা কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুমকি দিয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি প্রধান স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কোনো ধরনের সহায়তা প্রদানকারী দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এই নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত সোমবার প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসেন্ট।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি জানিয়েছেন, তাদের প্রতিক্রিয়া হবে ব্যাপক ও চূড়ান্ত। তিনি বলেন, স্থল, সমুদ্র, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং সাইবার স্পেস—সব ক্ষেত্রেই ইরান প্রস্তুত। শত্রুর নতুন হুমকির জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ধ্বংসাত্মক ও কঠোর জবাব দেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী আলোচনায় প্রধান ভূমিকা পালন করছেন, ইরাক সফরকালে বলেন, ওয়াশিংটন সম্ভবত বুঝতে পেরেছে যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে তারা জয়ী হতে পারবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও ‘কগনিটিভ’ যুদ্ধের অভিযোগ তুলে বলেন, অন্যায় নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ইরানকে সুপরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে।
এদিকে, গত ১৩ জুলাই থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় আরোপ করা অবরোধের ফলে তেহরানের তেল রপ্তানি কমেছে এবং তেলের দাম বেড়েছে। বিশ্লেষণী সংস্থা কেপলারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান তার সমুদ্রপথে পাঠানো তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি চীনে রপ্তানি করে। চীনকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন ট্রেজারি প্রধান স্কট বেসেন্ট সরাসরি কিছু না বলে জানান, অনেক আলোচনা ব্যক্তিগত পর্যায়ে রাখা ভালো। তিনি দাবি করেন, চীন তাদের শক্তির ৫০ শতাংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পায়, তাই তাদের যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া উচিত।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক মুখপাত্রের মাধ্যমে জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ কোনো সমস্যার সমাধান নয়। চীন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: গালফ টুডে





























