ইরান তাদের সামরিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। দেশটির সেনাবাহিনী এখন 'রক্ষণাত্মক' অবস্থান থেকে 'আক্রমণাত্মক' অবস্থানে নিজেদের স্থানান্তরিত করেছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে (IRNA) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামিনিয়া বলেন, তথাকথিত ১২ দিন ও ৪০ দিনের যুদ্ধের সময় ধীরে ধীরে এই নীতিগত পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে ইরানের সামরিক নীতি রক্ষণাত্মক থাকলেও এই দুই যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর তা ক্রমান্বয়ে আক্রমণাত্মক রূপ নিয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে দ্রুত ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখানো এবং প্রতিরোধমূলক (প্রি-এম্পটিভ) অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে একটি বিশেষ পুরস্কারের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন এই সামরিক কর্মকর্তা। আকরামিনিয়া জানান, ইরানের ভূখণ্ডে যদি মার্কিন স্থলসেনারা অনুপ্রবেশ করে, তবে তাদের হত্যা বা বন্দি করার জন্য পুরস্কার দেওয়া হবে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য বা বৈধ শিকারি অস্ত্রের অধিকারী সাধারণ নাগরিকরা কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দি করতে পারলে ৫ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ২৬,০০০ মার্কিন ডলার) পুরস্কার পাবেন।
নারী কোনো নাগরিক যদি এই কাজ সম্পন্ন করেন, তবে পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে। অর্থাৎ সেক্ষেত্রে পুরস্কারের পরিমাণ দাঁড়াবে ১০ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ৫৩,০০০ মার্কিন ডলার)। এছাড়া, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি দ্বিগুণ মূল্যে কিনে নেবে সেনাবাহিনী। এরপর সেটি মালিকের নামসহ সামরিক জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে এবং ওই ব্যক্তিকে সমমানের একটি নতুন প্রতিস্থাপনযোগ্য অস্ত্র দেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাবের তীব্র অবক্ষয় ঘটেছে বলেও দাবি করেন আকরামিনিয়া। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা একটি স্বাধীন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন, যা ওয়াশিংটনের অংশীদারিত্ব ছাড়াই গঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা যাই হোক না কেন, এটি স্পষ্ট করে দেয় যে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। মার্কিন অংশগ্রহণ ছাড়া এটিই প্রথম কোনো আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।






























