জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি সাম্প্রতিক সময়ে নিজের সরকারি বাসভবনে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শনিবার তিনি জানান, কর্মদক্ষতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে এবং দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থেই তিনি তার কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত এই বাসভবনটিকে কর্মক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।
তাকাচি গত ডিসেম্বর মাসে এই বাসভবনে ওঠেন। ১৯২৯ সালে নির্মিত এই ইটের তৈরি ঐতিহাসিক ভবনটি একসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বাসভবন বা 'কোতেই'-তে থাকার ফলে যাতায়াতের সময় বাঁচে এবং কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি দ্রুত কাজে যোগ দিতে পারেন।
তিনি জানান, বাসভবনের ভেতরেই দাপ্তরিক কাজের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে তিনি অফিসের সময়ের পরেও সেখানে বসেই কর্মীদের সাথে সরাসরি বা দূরবর্তী মাধ্যমে মিটিং করতে পারেন। এছাড়া বাসায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে পড়াশোনাও করেন তিনি। তার ভাষায়, 'আমার কাছে সরকারি বাসভবনটি একটি কর্মক্ষেত্রও বটে।'
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই কাজের ধরণ এবং সম্প্রতি এক্সে দেওয়া তার একটি তথ্য সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি জানিয়েছিলেন, অতিরিক্ত কাজের চাপে তাকে দিনে মাত্র শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমাতে হয়। এই বিষয়টি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে কাজের সাথে ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের অভাব এবং লিঙ্গ সমতার প্রশ্নে নেতিবাচক উদাহরণ হিসেবে সমালোচিত হচ্ছে।
তাকাচির জনসমর্থনও দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। এর পেছনে পুরুষতান্ত্রিক উত্তরাধিকার ব্যবস্থা বজায় রাখতে ইম্পেরিয়াল হাউস ল সংশোধন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব করার মতো অজনপ্রিয় নীতিগুলো দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি সংসদীয় অধিবেশন এড়িয়ে চলেন এবং রাতে ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাসভবনেই বেশি সময় কাটান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার পূর্বসূরীদের তুলনায় আইনপ্রণেতা ও কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ অনেক কমিয়ে দিয়েছেন এবং গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার পরিবর্তে এক্সে সরাসরি মন্তব্য ও নীতি প্রচার করেন।
ঐতিহাসিক এই বাসভবনটি নিয়ে নানা কিংবদন্তি রয়েছে, যার মধ্যে ১৯৩০-এর দশকে দুটি রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের ঘটনা এবং ভবনটি ভূতুড়ে হওয়ার গল্প অন্যতম। তবে এসব নিয়ে তাকাচির কোনো মাথাব্যথা নেই। তিনি বলেন, 'আমি কখনো ভূত দেখিনি, তবে তেলাপোকার মুখোমুখি হয়ে অনেকবার চিৎকার করেছি। আমার পায়ের পাশ দিয়ে তেলাপোকা দৌড়ে গেলে আমি বেশ আতঙ্কিত হই।'




























