ফুটবল বিশ্বে একটি বড় প্রশ্ন হচ্ছে, কোনো দলগত ট্রফি না জিতেও কি একজন খেলোয়াড় মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর জয় করতে পারেন? এই প্রশ্নের একটি স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক উত্তর দিয়েছে ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, দলগত ট্রফির চেয়ে মাঠে একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত অবদানই এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কোনো ট্রফি না জিতেও এই পুরস্কার জয় করা সম্ভব।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, দলগত ট্রফি ছাড়া ব্যালন ডি’অর জয়ের ঘটনা খুব বেশি ঘটেনি। ফুটবল ইতিহাসের মাত্র ছয়জন খেলোয়াড় এখন পর্যন্ত এই কীর্তি গড়তে পেরেছেন। ১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অর বিজয়ী স্ট্যানলি ম্যাথিউস কোনো দলগত শিরোপা ছাড়াই এই পুরস্কারটি নিজের করে নিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে ক্যালেন্ডার বছরের পরিবর্তে ফুটবল মৌসুমের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে ব্যালন ডি’অর দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে ডেনিস ল এবং ১৯৭০ সালে জার্ড মুলার এই তালিকায় নাম লেখান। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে মুলার ১০টি গোল করলেও তাঁর দল জার্মানি তৃতীয় স্থানে থেকে আসর শেষ করেছিল।
এরপর ১৯৭৮ সালে কেভিন কিগান এবং ২০০০ সালে লুইস ফিগো কোনো ট্রফি না জিতেই বছরের সেরা খেলোয়াড়ের এই পুরস্কার লাভ করেন। এই তালিকায় সর্বশেষ নাম লিখিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০১৩ সালে কোনো দলগত ট্রফি ছাড়াই ব্যালন ডি’অর জয়ের এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। এরপর গত ১১টি আসরে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর ঘটেনি।
চলতি বছর কোনো দলগত ট্রফি না জিতেও এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের দৌড়ে থাকা শীর্ষ দুই খেলোয়াড় হলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্ড। পর্তুগিজ কিংবদন্তি লুইস ফিগো মনে করেন, ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেই এবার এই পুরস্কার জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এমবাপ্পের দারুণ পারফরম্যান্স এবং ফিফা বিশ্বকাপে তাঁর অসাধারণ নৈপুণ্য তাঁকে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করেন ফিগো।
এমবাপ্পের সম্ভাবনা নিয়ে ফিগো বলেন, "এমবাপ্পে এবং বিশ্বকাপে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নিশ্চিতভাবেই তাঁকে সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় রাখবে। এছাড়া পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা খেলোয়াড়দেরও আমি এই তালিকায় রাখব। পুরো বছরের পারফরম্যান্সই এখানে বিবেচনা করা উচিত। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বকাপ বিজয়ী নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, তবে ঘরোয়া লিগের শিরোপা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমি হয়তো ভিতিনহা এবং দেসিরে দুয়ের কথা বিশেষভাবে বলব, যারা বিশ্বকাপ খুব একটা ভালো না কাটলেও, বিশেষ করে পর্তুগালের জন্য, একটি দুর্দান্ত মৌসুম পার করেছে। আমি তাদের সবাইকে প্রার্থীদের মধ্যে রাখব।"
অধিকাংশ ফুটবল পণ্ডিত ও সমর্থকদের মতে, লিওনেল মেসি, আর্লিং হালান্ড, রদ্রি এবং উসমান দেম্বেলেও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন। এছাড়া বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো এবং নিজ নিজ দেশের হয়ে ফিফা বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলা মাইকেল অলিস ও হ্যারি কেইনও এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের লড়াইয়ে রয়েছেন।




























