রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা আজমল হোসাইন গত আড়াই মাস ধরে বাসায় গ্যাস পাচ্ছেন না। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি সাত হাজার টাকা দিয়ে একটি বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছেন, যার ফলে তাঁর মাসিক বিদ্যুৎ বিল ১৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। শুধু আর্থিক চাপই নয়, গ্যাস না থাকায় পানি ফুটাতে না পেরে তাঁর দুই সন্তান আরসালান (২) ও আহসান (৯) অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এখন পানির এটিএম বুথ থেকে পানি সংগ্রহ করলেও বিশুদ্ধতা নিয়ে তিনি সন্দিহান, কারণ এর আগে এই পানি পান করে পুরো পরিবার ফুড পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হয়েছিল।
একইভাবে মিরপুরের হাজি মার্কেটের বাসিন্দা আয়েশা সিদ্দিকা চার মাস ধরে গ্যাসের তীব্র সংকটের মুখোমুখি। আগে মাসিক বিদ্যুৎ বিল ১ হাজার টাকা আসলেও ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহারের ফলে এখন তা আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় পৌঁছেছে। দেশজুড়ে গত ৯ বছর ধরে গ্যাসের উৎপাদন কমছে এবং ঘাটতি মেটাতে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি ও দেশীয় কোম্পানি সামিটের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। ১৫ আগস্ট সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলেও এলএনজির কার্গো সংকটে ১৯ আগস্ট বিকেলে এক্সিলারেটের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যদিও নতুন কার্গো আসায় সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে, তবুও সংকট পুরোপুরি কাটতে সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্ব শেওড়াপাড়ার শান্তা রানী গ্যাস না পেয়ে রান্নাঘরের পাশে মাটির চুলা বসিয়েছেন, তবে ভেজা লাকড়ির কারণে রান্না করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। তিনি জানান, গ্যাস না থাকায় দুপুরের খাবার খেতে খেতে বিকেল হয়ে যায়। কালশীর বাসিন্দা শিল্পী খাতুনের অবস্থা আরও করুণ। টিনশেড বাসায় থাকা এই গৃহিণী জানান, বাড়িওয়ালা বৈদ্যুতিক বা লাকড়ির চুলা ব্যবহারের অনুমতি দেন না। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনতে হয়, যাতে রিকশাচালক স্বামীর দৈনিক আয়ের বড় অংশ চলে যায়।
দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের ওপরও। মিরপুর-১২ নম্বরের বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শিহাব জানান, দেড় মাস ধরে চুলায় গ্যাস না থাকায় বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে, যা তাঁর গ্যাসট্রিকের সমস্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। কাজীপাড়ার বাসিন্দা আরেক শিক্ষার্থী সাবরী হাসান জানান, তাদের চারজনের ব্যাচেলর বাসায় এখন সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হয়, যা আগে সরকারি গ্যাস ব্যবহারের তুলনায় জনপ্রতি খরচ প্রায় ৬০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আগে সরকারি গ্যাসের জন্য ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিতে হতো।
সে ক্ষেত্রে জনপ্রতি ২০০ টাকার মতো খরচ হতো।


























