সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য নারী এশিয়া কাপকে সামনে রেখে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল তাদের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। দলের অধিনায়ক ফাতিমা সানা জানিয়েছেন, তার দল কোনো নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের দিকে নজর না দিয়ে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ফাতিমা বলেন, “প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ এবং খেলোয়াড়রা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য না করে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের মনোযোগ ধরে রাখবে।”
পাকিস্তানের কৌশল ও প্রস্তুতি
পাকিস্তান নারী দল টুর্নামেন্টের জন্য বেশ ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। ফাতিমা সানা জানান, দলের আগের সিরিজগুলোর ভুলগুলো পর্যালোচনা করে তা সংশোধনের কাজ চলছে। দুবাইয়ের কন্ডিশনের সাথে পরিচিত থাকাটা তাদের জন্য একটি বাড়তি সুবিধা হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। পাকিস্তান গ্রুপ ‘এ’-তে ভারত, থাইল্যান্ড, হংকং এবং চীনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ফাতিমা সম্প্রতি ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রথম পাকিস্তানি নারী ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন, যা তার আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার এই অভিজ্ঞতা দলের জন্য সহায়ক হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
বাংলাদেশের লক্ষ্য ও সেমিফাইনাল জিনের অবসান
এদিকে, বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি এশিয়া কাপে দলের দীর্ঘদিনের সেমিফাইনাল জিনের অবসান ঘটিয়ে ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। বাংলাদেশ দল মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। তারা গ্রুপ ‘বি’-তে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা, স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইন্দোনেশিয়ার সাথে খেলবে। জ্যোতি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য এবার ফাইনালে খেলা। আমরা বারবার সেমিফাইনালে গিয়ে হেরে আসছি, এই বাধা এবার ভাঙতে চাই।”
প্রস্তুতি ও ম্যাচের সূচি
- বাংলাদেশ দল শ্রীলঙ্কায় দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে, যা কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।
- জ্যোতি জানান, “প্রস্তুতির দিক থেকে আমি মনে করি এটি খুব ভালো হয়েছে, কারণ আমরা বেশ কিছু অনুশীলন ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি।”
- বাংলাদেশ ৩১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে তাদের যাত্রা শুরু করবে।
- এরপর ৬ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা এবং ৮ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গুরুত্ব
জ্যোতি মনে করেন, গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থান অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমরা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারি, তবে সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হতে হবে না।” বাংলাদেশ ২০১০ সালের এশিয়ান গেমসে রৌপ্য এবং ২০২২ সালে ব্রোঞ্জ জিতেছিল। জ্যোতি এবার আরেকটি পদক জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল নিয়ে অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। আমরা একটি পদক দেশে আনতে চাই, আর সেটি যদি স্বর্ণ হয় তবে তা আরও বড় অর্জন হবে। আমরা অবশ্যই সেই চেষ্টা করব।”
পাকিস্তান ও বাংলাদেশ উভয় দলই তাদের নিজ নিজ গ্রুপে সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচই তাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে, যেখানে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই দুই দলের পারফরম্যান্স দেখার জন্য।
সূত্র: গালফ নিউজ































