রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণ আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী ঈদে-মিলাদুন্নবী (সা.)-১৪৪৮ হিজরি উদ্যাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সভায় তিনি এ কথা বলেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, রাসুল (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণে মানব মর্যাদা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক অধিকারের যে মহান শিক্ষা উচ্চারিত হয়েছিল, তা বর্তমান বিশ্বের হিংসা, সংঘাত, অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য এবং নৈতিক অবক্ষয় থেকে উত্তরণের জন্য অপরিহার্য। তিনি বলেন, বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ কোনো জাতিকে শক্তিশালী করতে পারে না। অতীতের কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ ও অন্যায় যেন আর কখনও ফিরে না আসে, সেজন্য রাসূল (সা.)-এর শান্তির মর্মবাণী হৃদয়ে ধারণ করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে বিশ্ব মানবতার জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁর চরিত্রে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা ও মমত্ববোধের অনন্য সমন্বয় ছিল। তিনি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত মমতাশীল। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ও সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন করবেন এবং ন্যায়বিচার ও সাম্য হবে সমাজের ভিত্তি।
বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার ধর্মীয় নেতাদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে এবং ২০৩০ সালের আগে দেশের সব মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয় এই ভাতার আওতায় আসবে। তিনি সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ দূর করতে আলেম-ওলামাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয় এবং শেষে রাষ্ট্রপতি ঈদে-মিলাদুন্নবী-১৪৪৮ উপলক্ষে প্রকাশিত সিরাত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে আল কুরআনুল করিম এনসাইক্লোপিডিয়া উপহার দেন।





























