ডলি পার্টনের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ছিল কান্ট্রি মিউজিকের চিরাচরিত প্রথা ভাঙার এক অনন্য গল্প। তাঁর জমকালো উইগ এবং রাইনস্টোনের পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক অসামান্য গীতিকার ও শিল্পীর সত্তা, যিনি ‘জোলিন’ (Jolene) এবং ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’ (I Will Always Love You)-এর মতো কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন।
বারবারা ওয়াল্টার্সের সাথে এক বিখ্যাত টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে তিনি নিজেকে কখনো ‘মশকরা’ মনে করেন কি না, তখন পার্টন দৃঢ়তার সাথে উত্তর দিয়েছিলেন, “মশকরাটা আসলে জনগণের সাথেই হচ্ছে। আমি জানি আমি কী করছি এবং যেকোনো সময় তা বদলাতে পারি। আমি নিজের প্রতিভা সম্পর্কে নিশ্চিত।” এই উক্তিটি তাঁর ক্যারিয়ারের সেই সময়ের প্রতিফলন, যখন তিনি ন্যাশভিলের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সুপারস্টার হয়ে উঠছিলেন।
পার্টন তাঁর ইমেজ নিয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। তিনি নিজেই বলতেন, তাঁর সাজসজ্জার অনুপ্রেরণা ছিল টেনেসির পিটম্যান সেন্টারের ‘টাউন ট্রাম্প’। ‘ডাম্ব ব্লন্ড’ (Dumb Blonde) গানের মাধ্যমে তিনি যেমন নির্দিষ্ট কিছু শ্রোতাকে আকৃষ্ট করেছিলেন, তেমনি এই গ্ল্যামারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজের সাবলীল ও বিদ্রোহী সত্তাকে আড়ালে রেখেছিলেন। লরেটা লিনের অনেক আগেই তিনি ‘জাস্ট বিকজ আই’ম এ ওম্যান’-এর মতো গানে নারীবাদী সুর তুলেছিলেন, যা তৎকালীন রক্ষণশীল ন্যাশভিলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পোর্টার ওয়াগনারের সাথে সম্পর্ক। ১৯৬৭ সালে ওয়াগনার তাঁকে duet পার্টনার হিসেবে সুযোগ দিলেও, পার্টনই অধিকাংশ গানের কাজ করতেন। পরবর্তীতে ক্যারিয়ারের স্বার্থে তিনি সেই জুটি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন, যার ফলে ৩ মিলিয়ন ডলারের একটি মামলাও হয়েছিল। এমনকি এলভিস প্রেসলি যখন ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’ গাইতে চেয়েছিলেন, তখনও পার্টন তা প্রত্যাখ্যান করেন কারণ প্রেসলির ম্যানেজার গানের রয়্যালটির একটি অংশ দাবি করেছিলেন।
সত্তরের দশকে তিনি পপ সঙ্গীতের মূলধারায় প্রবেশ করেন। ‘হেয়ার ইউ কাম এগেইন’ এবং ‘নাইন টু ফাইভ’-এর মতো গানগুলো চার্টবাস্টার হিট হয়। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি আবার কান্ট্রি মিউজিকে ফিরে আসেন। ১৯৯৯ সালে ‘দ্য গ্রাস ইজ ব্লু’ অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি তাঁর শেকড়ে ফিরে যান এবং ব্লুগ্রাস ও অ্যাপালাচিয়ান ফোক সঙ্গীতের এক অনন্য সংমিশ্রণ উপহার দেন।
একবিংশ শতাব্দীতে এসে ডলি পার্টনের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। টেলর সুইফট থেকে শুরু করে বিয়ন্সে—নতুন প্রজন্মের তারকারা তাঁকে সঙ্গীত জগতের পথপ্রদর্শক হিসেবে গণ্য করেন। বিয়ন্সের ‘কাউবয় কার্টার’ অ্যালবামে ডলি পার্টনের উপস্থিতি ছিল এক অনিবার্য সংযোজন। আজকের দিনে কেউ আর তাঁকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলে না, কারণ তাঁর প্রতিভা ও কর্মজীবন নিজেই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছে।
























