দুবাইয়ের আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (DWC) নির্মাণ কাজ আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কোনোভাবেই ধীর হয়নি। দুবাই এয়ারপোর্টসের সিইও পল গ্রিফিথস নিশ্চিত করেছেন যে, বিশ্বের বৃহত্তম এই বিমানবন্দর তৈরির প্রকল্পটির গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতের প্রতি তাদের আস্থা এই নতুন বিমানবন্দরের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই টলমল করছে না।
নির্মাণ কাজের বর্তমান অগ্রগতি ও বিনিয়োগ
পল গ্রিফিথস বুধবার এক সাক্ষাৎকারে জানান, বর্তমানে আল মাকতুম বিমানবন্দরে ১৩ বিলিয়ন দিরহাম মূল্যের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আরও ৫৫ বিলিয়ন দিরহাম মূল্যের নতুন চুক্তি প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রমাণ হিসেবে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন
- গত ১৫ মাসে ১০ মিলিয়ন কর্মঘণ্টা ব্যয় করা হয়েছে।
- মাটিতে ১৭,০০০ পাইল বসানো সম্পন্ন হয়েছে।
- সাইট থেকে ৪৫ মিলিয়ন ঘনমিটার মাটি অপসারণ করা হয়েছে।
- বর্তমানে সাইটে প্রায় ৯,০০০ কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন।
চ্যালেঞ্জ ও কৌশলগত লক্ষ্য
গ্রিফিথস স্বীকার করেছেন যে, কোভিড-১৯ মহামারীর পরবর্তী সময় থেকে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান রয়েছে। তবে এই বাধা কাটিয়ে সময়মতো কাজ শেষ করতে দুবাই এয়ারপোর্টস বিশ্বব্যাপী সরবরাহকারীদের একত্রিত করছে। তিনি প্রকল্পটিকে অত্যন্ত জটিল এবং সময়সীমার দিক থেকে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দুবাইয়ের কৌশল হলো—আগে কাজ করা এবং পরে তা নিয়ে কথা বলা। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কোনো তাত্ত্বিক প্রকল্প নয়, বরং এটি একটি বাস্তব এবং চলমান উন্নয়ন কাজ।
ভবিষ্যৎ সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয়তা
এই প্রকল্পের মূল চালিকাশক্তি হলো দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (DXB) সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা। গ্রিফিথসের মতে, ২০৩২ সালের মধ্যে বর্তমান বিমানবন্দরের সক্ষমতা চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যাবে। তিনি বলেন, দুবাই শহর কোনোভাবেই তার বিমানবন্দর অবকাঠামোকে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হতে দেবে না। ২০২৪ সালের এপ্রিলে দুবাই সরকার ঘোষণা করেছিল যে, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সমস্ত কার্যক্রম আল মাকতুম বিমানবন্দরে স্থানান্তরিত হবে। প্রথম ধাপের কার্যক্রম ২০৩২ সালে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার পর এই বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে ২৬০ মিলিয়ন, যা একে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দরে পরিণত করবে।
উল্লেখ্য যে, আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের এভিয়েশন খাতে বিভিন্ন সময় অস্থিরতা দেখা দিলেও দুবাইয়ের এই মেগা প্রকল্প তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি। যদিও শারজাহতে সাত বছর বয়সী এক ভারতীয় শিশুর মৃত্যু বা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উত্তেজনার মতো ঘটনাগুলো আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলেছে, তবুও দুবাইয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলেছে। গ্রিফিথস পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, শহরের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এই বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম এবং এর নির্মাণ কাজ কোনোভাবেই থমকে থাকবে না।
সূত্র: খালিজ টাইমস






























