দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রথম দিনেই বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে দ্রুত বর্ধনশীল ফ্যাশন জায়ান্ট শেইন। মঙ্গলবার শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৪৪ দশমিক ৪ হংকং ডলারে নেমে আসে।
এর আগে সোমবার শেইন তাদের শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করেছিল প্রতি শেয়ার ৪৮ দশমিক ৫৬ হংকং ডলার। এই তালিকাভুক্তি থেকে কোম্পানিটি প্রায় ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন হংকং ডলার বা ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। এই হিসেবে কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অথচ এক সময় শেইনের বাজার মূল্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
শেইনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা লেই গুই এক অনুষ্ঠানে জানান, বর্তমানে তাদের ব্যবসা বিশ্বের প্রায় ১৬০টি বাজারে বিস্তৃত। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে গ্রাহকরা যেন ফ্যাশনের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সেটাই তাদের লক্ষ্য। তবে স্যাক্সো ব্যাংকের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ চারু চানানা মনে করেন, শেইনের এই হতাশাজনক অভিষেক প্রমাণ করে যে, বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধির ধারা নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন। তিনি আরও বলেন, উচ্চ খরচ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নজরদারি এবং তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে কোম্পানিটি। এছাড়া সস্তায় পণ্য বিক্রির মডেলটি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা শেইনের জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চীনের বাজারে ২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করা শেইন বর্তমানে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি কোম্পানি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে তালিকাভুক্ত হওয়ার একাধিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে হংকংয়ের পথ বেছে নেয় তারা। এর আগে মার্কিন আইনপ্রণেতারা শেইনের কারখানায় জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তাদের তালিকাভুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন। শেইন অবশ্য বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের দাবি, তারা জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়ে জিরো-টলারেন্স নীতি মেনে চলে। এছাড়া ডিজাইনারদের নকশা নকল করার অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা সব ধরনের কপিরাইট দাবিকে গুরুত্বের সাথে নেয় এবং ডিজাইনারদের অধিকারকে সম্মান করে।
চলতি বছরের জুলাই মাসে শেইন জানায় যে, মার্কিন বাজারে ছোট প্যাকেজের ওপর শুল্ক ছাড়ের সুবিধা বাতিল হওয়ায় তাদের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে। এছাড়া ইরানের যুদ্ধের কারণেও চাহিদা কমেছে এবং সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হয়েছে। তবে এত সব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও গ্লোবাল ডেটার বিশ্লেষক লুই ডেগলাইজ-ফাভরে মনে করেন, শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন এবং বিশাল গ্রাহক ভিত্তি এখনো শেইনের বড় শক্তি। আগামী দিনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও ক্রমবর্ধমান খরচের বাজারে শেইন তাদের মুনাফার হার কীভাবে ধরে রাখে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
শেইনের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত তাদের সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা ২৭৩ মিলিয়নের বেশি এবং তারা এক বছরে এক বিলিয়নেরও বেশি অর্ডার পেয়েছে। তবে এখন কোম্পানিটিকে নতুন করে প্রমাণ করতে হবে যে, কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও শুল্কের এই যুগেও তাদের ব্যবসায়িক মডেল কার্যকর কি না।
































