শারজাহতে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সাথে সাথে চাইল্ড সেফটি অর্গানাইজেশন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাড়ি থেকে স্কুলে যাতায়াত, স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিবারের তত্ত্বাবধানে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, পরিবারের সাথে খোলামেলা আলোচনা এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংস্থাটির মতে, স্কুলে ফেরা শিশুদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এই যাত্রা শুরু হয় যখন তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে যানবাহনে ওঠে এবং স্কুলে নিরাপদে পৌঁছানো পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। প্রতিদিনের যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলার পাশাপাশি, নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিশুদের মানসিক ও সামাজিকভাবে প্রস্তুত করতে এবং তাদের রুটিন পুনর্গঠনে অভিভাবকদের বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন। এই সময়টি পরিবার ও বিদ্যালয়গুলোর জন্য শিশুদের ঘিরে একটি আস্থার বলয় তৈরি করার সুযোগ, যা তাদের নিরাপত্তা, আত্মবিশ্বাস ও আপনবোধ নিশ্চিত করবে।
নিরাপদ ও আস্থার পরিবেশ গঠন
চাইল্ড সেফটি অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক হানাডি সালেহ আল ইয়াফেই বলেন, “একটি শিক্ষাবর্ষ তখনই সফল হয় যখন শিশুটি আস্থার একটি নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকে: এমন একটি পরিবার যারা কথা শোনে, এমন একটি স্কুল যারা তাদের গুরুত্ব দেয় এবং এমন একটি ডিজিটাল জগত যা জ্ঞান ও দায়িত্ববোধ দ্বারা পরিচালিত। তখন শিশুরা অনুভব করে যে তাদের কণ্ঠস্বর শোনা হচ্ছে, সহায়তা চাওয়া তাদের অধিকার এবং নিজেদের ও অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ।” তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই এই সংস্কৃতিটি সারা বছর আমাদের শিশুদের সঙ্গী হোক, যা তাদের শেখার জন্য প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা, সুস্থ সম্পর্ক গড়ার সক্ষমতা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আত্মবিশ্বাস দেবে।”
স্বাস্থ্য ও সুস্থতার গুরুত্ব
- ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের প্রতিদিন ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা এবং ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের প্রতিদিন গড়ে ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা উচিত।
- পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম পুষ্টি, শারীরিক সক্রিয়তা এবং পর্যাপ্ত পানি পানের সাথে শিশুর মনোযোগ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
- স্কুলের প্রথম সপ্তাহগুলোতে নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর রুটিন বজায় রাখা শিশুদের নতুন একাডেমিক সময়সূচীর সাথে মানিয়ে নিতে এবং স্কুলের চাপ কার্যকরভাবে সামলাতে সাহায্য করে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ইতিবাচক আচরণ
চাইল্ড সেফটি অর্গানাইজেশন উল্লেখ করেছে যে, ডিজিটাল ব্যবহার এখন শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিক অভিজ্ঞতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই শিশুর বয়স, পরিপক্কতা এবং তারা যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে, তার ওপর ভিত্তি করে পরিবারের সচেতন তত্ত্বাবধান জরুরি। ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা এবং গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট চুক্তি থাকা প্রয়োজন। এটি শিশুদের ডিজিটাল কন্টেন্টের সাথে কীভাবে যুক্ত হতে হবে সে বিষয়ে সচেতন করে এবং কোনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়লে বিশ্বস্ত কারো কাছে সাহায্য চাওয়ার সাহস জোগায়।
সংস্থাটি আরও জানায়, স্কুলে বুলিং বা নির্যাতন প্রতিরোধ শুরু হয় এমন একটি পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে, যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভিন্নমতের প্রতি সম্মান থাকে এবং প্রতিটি শিশু নিজেকে মূল্যবান ও অন্তর্ভুক্ত মনে করে। শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক আচরণ প্রচার করতে, সহপাঠীদের সমর্থন করতে এবং প্রয়োজনে সাহায্য চাইতে উৎসাহিত করা উচিত, যা একটি সহযোগিতামূলক ও সুসংহত স্কুল কমিউনিটি গড়ে তুলতে অবদান রাখে। ভারসাম্যপূর্ণ তত্ত্বাবধান শিশুদের ডিজিটাল দায়িত্বশীলতা বিকাশের সুযোগ দেয় এবং প্রযুক্তিকে শিক্ষা ও বিনোদনের জন্য ইতিবাচক ও নিরাপদ উপায়ে ব্যবহার করতে শেখায়।
সূত্র: গালফ টুডে
































