সিরাজগঞ্জের নদ-নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশেষ করে ফুলজোড়, বড়াল ও যমুনা নদীতে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়েছেন। সিরাজগঞ্জ মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর, চৌহালি ও সদর উপজেলায় বর্তমানে ১০৫ জন চাষি ১ হাজার ৫৮৮টি খাঁচায় মনোসেক্স তেলাপিয়া ও কিছু ব্লেককার্প জাতের মাছ চাষ করছেন।
ফুলজোড় নদীর ভূইয়াগাঁতী থেকে নলকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খাঁচায় মাছ চাষের প্রসার ঘটেছে। পাঁচ বছর আগে যেখানে মাত্র ৩০ জন চাষি ছিলেন, বর্তমানে সেখানে ৯০ জন মৎস্যচাষি ১ হাজার ২০০টি খাঁচায় মাছ উৎপাদন করছেন। এই উদ্যোগের ফলে প্রায় চার শতাধিক পরিবার সরাসরি মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। বাৎসরিক মাছের উৎপাদন প্রায় দেড় হাজার টনে পৌঁছেছে। ২০১১ সালে স্থানীয় কয়েকজন দিনমজুর ও মৎস্যজীবী চাঁদপুরের আদলে এই পদ্ধতি শুরু করেছিলেন, যা এখন অনেকের জন্য আয়ের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঁশ, জাল ও ড্রাম ব্যবহার করে ১৫ ফুট প্রস্থ ও ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের প্রতিটি খাঁচা তৈরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়।
চাষিরা জানান, খাঁচায় মাছ চাষ বেশ লাভজনক। মাস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক চাষি জানান, প্রতি কেজি মাছ উৎপাদনে পৌনে দুই কেজি ভাসমান খাবার ও ওষুধের পেছনে প্রায় ১৭৫ টাকা খরচ হয়। পাঁচ মাস পরিচর্যার পর প্রতিটি মাছের ওজন প্রায় এক কেজিতে পৌঁছায়। তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত চাষি আতাউর রহমান জানান, চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসে উজান থেকে আসা কেমিক্যালের কারণে মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়। লোকমান হোসেন নামে আরেক চাষি জানান, শীতকাল তেলাপিয়া চাষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
রায়গঞ্জ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, ফুলজোড় নদীতে ১ হাজার ২০০ খাঁচায় তেলাপিয়া চাষ করে চাষিরা দেশীয় মাছের উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখছেন। স্থানীয় মৎস্য অফিস থেকে তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং এই চাষিদের সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ ঘোষ জানান, নিয়মিত পরিদর্শন, পানির গুণগত মান পরীক্ষা এবং রোগাক্রান্ত মাছের চিকিৎসা ও পোনা সংগ্রহের বিষয়ে চাষিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মৎস্যচাষিরা সরকারি আর্থিক সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে এই শিল্প আরও সম্প্রসারিত হবে এবং উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফুলজোড় নদীতে সারি সারি খাঁচায় মাছ চাষ করে অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন ৯০ যুবক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরেজমিনে দেখা যায়, ভূইয়াগাঁতী থেকে নলকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফুলজোড় নদীর দুই পাশে খাঁচায় মাছচাষির সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৫ বছর আগে যেখানে ৩০ জন চাষি ছিল আজ সেখানে ৯০ জন মৎস্যচাষির ১২০০ খাঁচায় মাছ চাষ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভালো লাভ হওয়ায় সিরাজগঞ্জে খাঁচায় মৎস্য চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সংখ্যা প্রায় শতাধিক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে প্রায় ৪ শতাধিক পরিবার সরাসরি মাছ চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই কর্মসংস্থানের পথ দেখান দিন- মুজুর হোসেন আলী, শামছুল হক, আব্দুর রাজ্জাক, মিজানুর, জয়নাল।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ




























